• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার ষড়যন্ত্রকারীরা চিহ্নিত ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন


প্রকাশিত: ৬:৫০ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২১ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬২ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : কুমিল্লায় হামলার ঘটনা কে কেন্দ্র করে সারাদেশে অস্থিরতা সৃষ্ঠির চেষ্ঠা করছে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন। ওদিকে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে ২২ জেলায় এবং প্রয়োজন হলে সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত করে শিগগির গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর এ সভা মনে করছে, তদন্ত হওয়ার আগে আমরা মনে করছি, আমরা সিদ্ধান্তে আসিনি। আমরা শতভাগ নিশ্চিত নই। আমরা মনে করছি, এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল, কোনো ষড়যন্ত্রকারী, চক্রান্তকারীর কর্ম। আমরা তদন্ত শেষে আপনাদের সব ঘটনা জানাতে পারবো।আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী, যেখানে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। কুমিল্লার এ দুঃখজনক ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করবো।কুমিল্লা ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, অচিরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ সব গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার একটি পূজা মণ্ডপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, গতকাল সকালে সেটি আমাদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এটি কীভাবে হয়েছে সেটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে সারা দেশে এটা চলে যায়।সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখেছি হৃদয় বিদারক কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দেখলাম চারজন নিষ্পাপ মানুষ নিহত হলো। সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ঘটনা একের পর এক ঘটছে। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা রাত কাজ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বসেছিলাম, করণীয় কী। আমরা দীর্ঘ আলাপের মাধ্যমে মনে করছি, অবশ্যই এটি তদন্ত সাপেক্ষ, আমরা শতভাগ নিশ্চিত নই। আমরা মনে করছি, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল, কোনো চক্রান্তকারী-ষড়যন্ত্রকারীর কর্ম এটা। আমরা তদন্ত শেষে সব জানাতে পারব। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী যেখানেই যে বিশৃঙ্খলা করছে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে।কুমিল্লার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করব। আমরা এর মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। তাদের সকলকে শনাক্ত করে শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে মনে করছি। এ জায়গায় আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছি। যারা এটা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর বুধবার সকাল থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকেরা বলছেন, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এল সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।এ ঘটনার জের ধরে চাঁদপুর, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, যারা ধর্মকর্ম করে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। আমাদের দেশে যে সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধন আছে এটাকে তা নষ্ট করার একটা প্রক্রিয়া বলেই আমরা মনে করছি। এ ধরনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে যারা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন বা চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।যে সব জায়গায় এ ঘটনা ঘটছে যদি কেউ এতে উসকানি দেন বা জড়িত থেকে ষড়যন্ত্র করেন তাকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

এ সময় প্রতিমা বিসর্জনের আগ পর্যন্ত সকল ধর্মের মানুষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, গত সভায় আমরা বলেছিলাম, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি বসাতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ভলান্টিয়ার থাকবে। অনেক মণ্ডপেই তা করা হয়নি।সব মণ্ডপ যেন সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসেন এবং তাদের নিজস্ব ভলান্টিয়ার তারা যেন নিয়োগ করেন। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় সে আহ্বান করছি। সবাই যেন ধৈর্যসহকারে শান্তি বজায় রাখে। কোনো উসকানিতে কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হয়।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমে যে গুজবগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয় সেগুলো যাতে কেউ না ছড়ায়। আমরা কোনো পূজামণ্ডপ বন্ধের নির্দেশনা দেইনি। যারা গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন তাদেরও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।কুমিল্লায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সারা দেশে অনেকেই যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল তাদেরকেও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, কয়েক জায়গায় হিন্দু বাড়িতে আক্রমণের প্রচেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।