কালো টাকার কাছে ব্যর্থ দুদক!
বিশেষ প্রতিনিধি : দুর্নীতি রোধে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে এর জন্য সমাজে পেশি শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যকে দায়ী করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।দুদকের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সংস্থাটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা জনগণের বিশ্বাস সেই মাত্রায় অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি, এর কারণটা ব্যাখ্যা করতে হবে। সত্যকে আমাদের স্বীকার করতে হবে। সত্যটা হল- সমাজের পেশি শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যের কারণে আমরা পারিনি। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কোন পেশি শক্তি আপনাকে বাধা দিল? উত্তর আমি দেব না, আপনাকে উত্তর বের করতে হবে।
“কে সিদ্ধান্ত নেয়, কে ক্ষমতায় থাকে, তার উত্তর নিশ্চয় আপনার কাছে আছে। আমি এটুকুই বলব সমাজের পেশি শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যের কারণে আমরা জনগণের বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।”তবে জনগণের বিশ্বাস অর্জনে দুদক চেষ্টা করছে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “তার মানে এই নয় যে, আমরা পৌঁছাতে পারব না। আপনারা দেখেছেন আমরা প্রতিটি স্তরেই গিয়েছি, ধরেছি আইনের আওতায় এনেছি।
“আমরা একটা বার্তা দিতে চেয়েছি, সেখানে কিছুটা সফল হয়েছি- বার্তা দিতে পেরেছি যে আপনি দুর্নীতিবাজ, আপনি ধরাছোঁয়ার বাইরে নন, আপনাকে ধরা সম্ভব। এটাই আমাদের বড় সফলতা। তবে পূরিপূর্ণ সফলতা এই জন্য নয় যে, এখনও সমাজে কালো টাকা ও পেশি শক্তির দৌরাত্ম্য আছে।”
দুদকের সফলতার দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করেছি। এই গোয়েন্দা ইউনিট যথেষ্ট কাজ করছে। আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, যে সকল সরকারি, আধাসরকারি বা ব্যাংকের দুর্নীতি হিসেবে সাধারণ মানুষ মনে করেন, এমন অনেকের দুর্নীতির আমলনামা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছি। এটা আমরা সময়মতো প্রকাশ করব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
সেই ‘আমলনামা’ এখন প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “কারণ যুদ্ধে আপনাকে বিবেচনা করতে হয় সময়, শক্তি ও কর্মকৌশল। কখন আগাবেন, কখন পেছাবেন। রসদ ও স্ট্র্যাটেজি থাকলে আপনি যুদ্ধে পরাজিত হবেন না। আমরা রসদ তৈরি করে রেখেছি, সময়মতো প্রকাশ করব। তাদের আমলনামা যথেষ্ট ভারী। উদাহরণ দিতে পারি, এক ভদ্রলোক, যার পরিচিতি অত্যন্ত সৎ, তার আমলনামা আমাদের আছে, বেশ ভারী।”
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্রে দুর্নীতিবাজদের না রাখার ধারা সংযুক্ত করতে দুদক থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে দুর্নীতিবিরোধী কবিতা, প্রবন্ধ ও রচনা রাখার বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান ইকবাল মাহমুদ।
সম্প্রতি পাস হওয়া সরকারি কর্মচারী আইন দুদক পর্যালোচনা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আইনে কর্মকাচরীদের ম্যানেজমেন্ট কী হবে, সেটা যদি না থাকে তাহলে পর্যালোচনা করে নিজেরা একটা আইন তৈরি করার উদ্যোগ নেব। সেখানে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের সম্পত্তির বার্ষিক হিসাব দেওয়ার বিধান রাখা হবে।”সভায় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মো. শামসুল আরেফিনসহ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।



