কালো টাকাও সাদা হবে বিধানে অর্থবিল পাস জাতীয় সংসদে

সংসদ রিপের্টার : কালো টাকাও সাদা হবে বিধানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২১ পাস করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে এই বিল পাস হয়। তবে অর্থ বিলে প্রস্তাব আকারে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিল পাসের সময় সংশোধনী যোগ করে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ রাখল সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সরকার দলীয় এমপি মো. আব্দুস শহীদ এ বিষয়ে প্রস্তাব তুললে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা গ্রহণ করেন এবং পরে কন্ঠভোটে তা পাস হয়।
কালো টাকা সাদা করলে অর্থের উৎস নিয়ে দেশের কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না- এমন সুযোগ দিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আয়কর আইনে দুটি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়, যার মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন। গত ৩ জুন আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেন নি। অর্থ বিলেও এর সংশোধন বা চলমান রাখার প্রস্তাব ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করহার বাড়িয়ে এবং নতুন একটি সুযোগ দিয়ে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করার বিশেষ সুবিধা রাখা হলো।
সংসদে বাজেট প্রস্তাবনার ওপর আনিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থবিল পাস করার জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে কণ্ঠভোট আহ্বান করেন। সংসদজুড়ে ‘হ্যাঁ’ শব্দ শোনা যায়। ‘না’- এর পক্ষে কেউ ভোট দেননি।এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বহু দূর যেতে চাই। পাকিস্তানও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করছে। সারা বিশ্বের অর্থনীতি পাল্টে গেছে, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি যখন এমন করুণ, সে অবস্থাতেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অতটা খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, এ বছরের বাজেট দেশের মানুষের জন্য। তাই, সব জেনে-শুনেই আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। আশা করি, এবারের বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষম হব। এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা অর্থ বিলের বিভিন্ন অংশে সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক, মশিউর রহমান রাঙার কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে এগুলো ভোটে দিলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বাজেট ঘোষণার পর মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথকভাবে করপোরেট কর কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করে। এনবিআর প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এ খাতে করপোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং সেবার করপোরেট কর প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ করা হয়। এটি কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ১৫টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ, শিওর ক্যাশ, ইউক্যাশ, মোবাইল মানি, নগদ ও উপায়। ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।এবারের অর্থবিলে কর্মীদের বেতন পরিশোধে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও সম্মানির পরিমাণ ১৫ হাজার টাকার বেশি হলে তা ক্রসচেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করার বিধান রয়েছে। তা না হলে এই খাতে ব্যয় করা অর্থ আয় হিসাবে দেখানো হয় না। আর আয় হিসাবে গণ্য করলে তা করযোগ্য হয়ে যায়। সংশোধিত অর্থবিলে এই সীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।গত ৩ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর দুই দিনের আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস এবং ১৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়। সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয় ২ জুন, যা আগামী ১ জুলাই শেষ হবে।



