কার জিঘাংসায় লাশ ডা.আজাদ!

বরিশাল প্রতিনিধি : হাসপাতালের লিফটের নিচে পড়ে ছিল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এমএ আজাদ সজলের মরদেহ। কার জিঘাংসায় তিনি লাশ হলেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা!নগরীর মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করে এর তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা। মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. জহিরুল হক মানিক এ মৃত্যু কে দুর্ঘটনা বলে দাবি করায় রহস্য প্রকট আকার ধারন করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সার্জন সুদীপ কুমার হালদার বলেন, চিকিৎসক আজাদ একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, তাঁর হাত, মাথায় কোনো আঘাত দেখা যায়নি। তবে পায়ের দিকটা ভাঙাচোরা আছে বলে মনে হচ্ছে।
মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জহিরুল হক মানিক জানান, মঙ্গলবার সেহেরির সময় ঢাকা থেকে ডা. আজাদের স্ত্রী ফোনে যোগাযোগ করে না পাওয়ায় মমতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ডাক্তারের রুমে তালা দেয়া দেখে পুলিশে খবর দেয়। সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই কক্ষের তালা ভাঙা হয়। এরপর খোঁজাখুঁজি চলতে থাকে দশ তলা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে।
একপর্যায়ে হাসপাতালের এক কর্মী নিচতলায় লিফটের নিচে ডাক্তারের মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ সুরতহাল করে দুপুরে মরদেহ ময়নাতন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ডা. আজাদ খুব ভালো মানুষ ছিলেন এবং তার কোন শত্রু আছে বলে জানা নেই শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালকের।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোকতার হোসেন জাতিরকন্ঠ কে জানান, ড. আজাদের মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পুরো বিষয় তদন্ত করে দেখছেন। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।জানা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আজাদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে প্রায় বছর খানেক তিনি নগরীর কালিবাড়ি রোডের মমতা হাসপাতালের সাত তলার একটি কক্ষে বসবাস করতেন। দুই সন্তানসহ তার স্ত্রী ঢাকায় বসবাস করেন।



