• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

করোনায় ডোবাবে গার্মেন্টকর্মীরা-


প্রকাশিত: ৯:৩৬ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯৬ বার


সরেজমিনে দৌলতদিয়া থেকে শফিক রহমান / সাইফুল বারী মাসুম : ভয়াল করোনাভাইরাসের থাবায় গার্মেন্টকর্মীরা কি ঢাকাকে ডোবাবে? তা না হলে এমন গাদাগাদি করে ঢাকা আসা কেন?
সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছে গার্মেন্টস কর্মীরা। অথচ সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে সর্বত্রই। কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীরা সেখানে কোন কিছুর ধার ধারছেন না।বরং তারা মনে হচ্ছে ক্ষুদ্ধ!!

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আবার কর্মস্থল অভিমুখে ছুটতে শুরু করেছেন। আজ শনিবার সরেজমিনে সকাল থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে ঢাকামুখী পোশাকশ্রমিকসহ মানুষের প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে। সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু কেউ ছুটি মানছেন না। করোনাভাইরাসে ছড়িয়ে পড়া রোধে অন্তত দুই সপ্তাহ সবাইকে বাড়িতে রাখতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপ নিলেও গার্মেন্টস কর্মীদের কারণে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
এ সময়কালে জনসমাগম তো দূরে কথা, বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরেও যাতে মানুষ বের না হয়, এ জন্য মাঠে নামানো হয়েছে সেনা। চলছে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত সচেতনতা কার্যক্রম ও অভিযান। কিন্তু তারপরও কোথায় যেন ব্যর্থতা চলছে।

সরেজমিনে আজ দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পণ্যবাহী খালি ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন ছোটখাটো যানবাহনে করে এসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নামছেন। দূরপাল্লার পরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক কষ্ট করে ঘাটে পৌঁছেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাঁদের অনেকেই কারখানা খোলার সিদ্ধান্তে জানালেন ক্ষোভ।

একই অবস্থা মাওয়া ফেরিঘাটের। এখানে প্রতিটি ফেরিতে শত শত মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব । পোশাকশ্রমিক সাইফুল আলম জাতিরকন্ঠ কে বলেন, কাল গার্মেন্টস খুলবে, তাই ফিরছেন। তবে এই কর্মী বলেন, এ পারে এসে শুনলাম কারখানার বন্ধ বাড়াবে। এখন ঢাকা যাব, নাকি ফিরে যাব, বুঝতে পারছি না।

ওদিকে মাওয়া ঘাটে ফেরিতে পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নেই সামাজিক কোনো দূরত্ব। ঝিনাইদহ থেকে আসা পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ইমাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ‘সরকার আমাদের এক ধরনের বিপদে ফেলে দিচ্ছে। যেখানে সারা দেশে লকডাউন চলছে, সেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজ করতে বলা হচ্ছে। আগামীকাল (রোববার) থেকে পোশাক কারখানা খোলা। বাধ্য হয়ে আজ খুব সকালে ভ্যান-রিকশা, কখনো অটোরিকশায় করে দুই ঘণ্টার পথ এভাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঘাটে এসে পৌঁছলাম। এটা কি ঠিক হচ্ছে?’

খুলনা থেকে ভোর ছয়টায় রওনা দিয়েছেন ঢাকার এক পোশাকশ্রমিক মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘কোথাও গাড়ি নেই। সারা রাস্তা ভেঙে ভেঙে প্রায় দশ গুণ বেশি টাকা খরচ করে দৌলতদিয়ায় পৌঁছালাম। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা যায়?’

বাগেরহাট থেকে কর্মস্থল গাজীপুরের পোশাক কারখানায় যাচ্ছেন আকলিমা ও লীমা আক্তার। দুই বোন আজ সকাল সাতটায় অন্যদের সঙ্গে মাইক্রোবাস ভাড়া করে রওনা করেন। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে তাঁদের জনপ্রতি ৮০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। তিনিও বলেন, ‘একদিকে গাড়ি নেই, আরেক দিকে করোনার ঝুঁকি, এভাবে কি আসা যায়?’

ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা সাইফুর রহমান ঝিনাইদহ থেকে ঢাকা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে অফিস খোলা। কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতে আজ (শনিবার) ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। উপায় নাই, বাধ্য হয়ে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশে করোনাভাইরাস নিয়ে যেখানে আমরা সবাই শঙ্কিত, সেখানে এভাবে ভিড় ঠেলে যাওয়া আমাদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি।’

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে সকালে ভিড়ে থাকা রো রো (বড়) ফেরি আমানত শাহর স্টাফ শহিদুল ইসলাম জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে কিছু যাত্রী পারাপার হয়েছিল। আজ সকাল থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। একেকটি বড় ফেরিতে ৩ থেকে ৪ হাজার করে মানুষ পার হচ্ছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ জাতিরকন্ঠ কে জানালেন,
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৪টি ফেরি থাকলেও বর্তমানে দুটি বড়, একটি মাঝারি ও দুটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। পোশাক কারখানা খুলতে শুরু করায় আজ সকাল থেকে ছোট গাড়ির পাশাপাশি ঢাকামুখী অনেক মানুষ ছুটতে শুরু করেছেন।