• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ওসির স্ত্রীর সঙ্গে দারোগার বেলেল্লাপনা!


প্রকাশিত: ৯:৩৪ পিএম, ২৩ আগস্ট ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১০ বার

রাজশাহী প্রতিনিধি : এবার ওসির স্ত্রীর সঙ্গে দারোগার অশালীন আচরণ ও বেলেল্লাপনায় তোলপাড় চলছে রাজশাহী পুলিশে। জানা গেছে, রাজশাহীর একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) স্ত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও বেলেল্লাপনা’র অভিযোগ উঠেছে আরেকটি থানার দারোগার (এসআই) বিরুদ্ধে। ওই এসআই রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় কর্মরত। এ নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশে তোলপাড় হচ্ছে। গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী নগরের আরডিএ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই এসআইয়ের নাম মাসুদ রানা। তিনি নগরের বোয়ালিয়া থানায় কর্মরত। দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি এ ঘটনা ঘটান। ভুক্তভোগী নারী জেলা পুলিশের একটি থানার ওসির স্ত্রী। ওই নারীর দাবি, এসআই মাসুদ রানা তাঁর সঙ্গে অশালীন ও বেলেল্লাপনা আচরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ওসির স্ত্রী আরডিএ মার্কেটে একটি প্রসাধন সামগ্রীর দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। তখন এসআই মাসুদ রানা তাঁর কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তাঁকে বিরক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই নারী এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আপনি বারবার আমার কাছ ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন কেন? আমাকে বিরক্ত করছেন কেন?’ জবাবে এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘এটা কি আপনার জায়গা নাকি?’ একপর্যায়ে ওই নারী তাঁকে বলেন, ‘আমাকে চেনেন, আমি কে?’ জবাবে এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি পুলিশ আমার পোশাকে লেখা আছে।

আপনার শরীরে তো লেখা নাই।’এরপর ওই নারী তাঁর স্বামীর পরিচয় দেন। পরিচয় পাওয়ার পর এসআই মাসুদ রানা সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। এই কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘কিছুটা সঠিক আছে। আমি আমার স্ত্রীর জন্য একটা ক্লিপ কিনতে দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। ভাবি আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেন। আমি বলি, আপনার শরীরে কি টাচ লেগেছে? এই নিয়ে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।’

মাসুদ রানা বলেন, ‘বিষয়টা নিয়ে আমি লজ্জিত, ব্যথিত। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি। ঘটনাটি এত দূর গড়াবে, ভাবতে পারিনি। তিনিও দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছেন, আমিও কথা বলেছি। কিন্তু আমার ওই ধরনের মেন্টালিটি নাই। ঈদের সময় আমার স্ত্রী একটা ক্লিপ চেয়েছিল। তার আবদার পূরণ করতে চালককে গাড়িটা মার্কেটের সামনে দাঁড় করাতে বলি। তারপর মার্কেটে যাই।

এর মধ্যেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে।’ তিনি অনুরোধ করেন, ‘আমার এই দুঃখ এবং লজ্জা পাওয়ার বিষয়টি যেন ভাবির কাছে আপনারা পৌঁছে দেন।’বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, এটুকু তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি শুনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁরা এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।