• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

এরশাদের চালে জাপা’র মন্ত্রীত্ব ধূলিস্যাত!


প্রকাশিত: ৩:৫৪ পিএম, ৪ জানুয়ারী ১৯ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৭০ বার

এর রহমান : এরশাদের চালে এবার জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতাদের মন্ত্রীত্ব পাওয়া ধূলিস্যাত হয়ে যাচ্ছে! এরশাদ বলে দিয়েছেন, ‘জাপা বিরোধী দলে থাকবে মন্ত্রী হবেনা কেউ’-। তবে এটা কি সাবেক সেনা শাসক এইচ এম এরশাদের নয়া চাল নাকি অন্য কিছু তা জানতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, সোমবার মন্ত্রী পরিষদের শপথ! এসময় জাপা কয়টা মন্ত্রীত্ব পাবে তা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু এবার তার উল্টো পদক্ষেপ দিলেন এরশাদ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

জাপার ক্ষমতার অন্তরালে নানা ধরনের ঘঁুটি নাড়াচাড়া হয়। গত সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চাননি এমন ব্যক্তিদেরও মন্ত্রীত্ব দিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনিয়ে এরশাদ মনক্ষুন্ন ছিলেন।কিন্তু করার কিছু ছিলনা। তাই এবার সেই ভুল করলেন না এরশাদ।

বলা বাহুল্য এরশাদের এই ঘোষণার আগেই জাপার নয়া মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে বলেছিলেন-জাপা সরকার ও বিরোধী দলে থাকবে। এই বিষয়টা জাপা’র ক্ষমতার আড়ালে আলোচনা হলে এরশাদের টনক নড়ে। এর জের ধরেই এবার এরশাদ নয়া চাল চাললেন আগেভাগেই?

একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সংসদে সরকারি দল নাকি বিরোধী দলে থাকছে জাপা- এমন নানা গুঞ্জনের পর অবশেষে শুক্রবার দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করলেন।

একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোনও সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না বলেও জানান এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই সঙ্গে বিরোধী দল ও মন্ত্রিসভায় থাকা দলটির প্রধান।বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং দেশবাসীর উদ্দেশে আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারী দলের সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিরোধী দলের নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপ-নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।’ বিজ্ঞপ্তিতে সংসদের স্পিকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান এরশাদ।গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এতে মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি এবং জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন।

এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ দুটি, বিকল্পধারা দুটি এবং বাংলাদেশ জাসদ, তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি করে আসন পায় নির্বাচনে। আর বিএনপি পাঁচটি, গণফোরাম দুটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পায় তিনটি আসন।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর পহেলা জানুয়ারি নির্বাচিত ২৯৮ জনের নাম-পরিচয়সহ গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শপথ নেন ২৮৯ জন সাংসদ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির ছিলেন ২১ জন। অসুস্থতার কারণে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।দশম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও এরশাদের ভাই জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে শপথ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। এবারের মতো দশম সংসদেও এরশাদ নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে পৃথকভাবে শপথ নিয়েছিলেন।