• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

এফ রহমান হলে লাইভ নিয়ে যা ঘটল!


প্রকাশিত: ৩:২৭ পিএম, ১১ মার্চ ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৮৫ বার

ঢাবি প্রতিনিধি : বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নিউজ লাইভের কথা শুনে ক্ষেপে যান। তিনি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, ‘লাইভ করছেন?’ সাংবাদিক লাইভ করছেন শুনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘নো লাইভ। নো লাইভ (উচ্চস্বরে)। প্লিজ। সেন্টারের ভেতরে লাইভ করা নিষেধ করা হয়েছে।’এ সময় সাংবাদিক বলেন, ‘সেন্টারের ভেতরে আমি যাইনি।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘ এইটা তো সেন্টার।’

কোন জায়গা থেকে লাইভ করবে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এখানে আসেন।’ সাংবাদিক তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এখন লাইভ কি আমি বাইরে থেকে করবো?’ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বি আমি আপনাকে সময় দিবো।’ভোট গ্রহণ কী রকম হচ্ছে জানতে চাইলে প্রভোস্ট বলেন, ‘আমি আপনাকে বলেছি, ভোট ভালো হচ্ছে।’ভোট কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট নেই, আপনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন সে কথা আমি কেন বিশ্বাস করবো? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে এজেন্ট থাকার তো কোনো নিয়ম নেই।’

সংবাদমাধ্যম খালি চোখে দেখতে পারবে না। দীর্ঘক্ষণ ভোটাররা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত ৩০% ভোট পড়েছে। এখন বাজে কয়টা ১০টা। তাহলে এখন যদি ৩০% ভোট পড়ে তাহলে আমরা ২টা পর্যন্ত ভোট নিবো। নিশ্চয়ই প্রচুর ভোট পড়বে।’

এ সময় উপস্থিত ছাত্রদলের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমাকে বার বার ছাত্রলীগের পোলাপানরা উপর থেকে নিচে নামায় দিতাছে। তারা থাকতাছে কিন্তু আমাদেরকে থাকতে দিতাছে না।’এ সময় প্রভোস্ট অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম অভিযোগ করার সাথে সাথে তার বড় লিডারও আসছিলো। আমাদের যারা হাউজ টিউটর আছে তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের সাথে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন এবং ভোট কেন্দ্রের অন্য প্রার্থীদেরও আমরা ১-২ মিনিটের মধ্যে থাকতে দিচ্ছি না। কারণ ৪৮-৯৫ জন প্রার্থী।’

একজন ভোটার ২০ মিনিট একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ৩০% ভোট পড়েছে এবং ভোটাররা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে ভোট হচ্ছে। এখন আপনার এক চোখে, আপনার এক মিডিয়াতে দেখলে, আমার জবাব আমি দিচ্ছি।’সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার বিষয়ে প্রভোস্ট বলেন, ‘নো নো। আমি সাংবাদিকদের বলেছি, কেন্দ্রের ভিতরে সাংবাদিকদের যাওয়া বিধানে নিষেধ করা হয়েছে।’

প্রভোস্টের নিরাপত্তার বাইরে ছাত্রলীগের প্রার্থীর পরিচয়পত্র পরে বেশিরভাগ দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে অন্য দলের প্রার্থীরা সুযোগ পেল কীভাবে? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত ছাত্রদলের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমি স্যারকে জানানোর পর স্যার বলেছেন, “আমিতো আর তোমার সাথে ঘুরতে পারবো না। তবে আমি বিষয়টা দেখতেছি এইটা বলে আমাকে আশ্বাস দেন স্যার। কিন্তু স্যার যখনই চলে যান, ছাত্রলীগের পোলাপাইন আমাদের উপর থেকে নামিয়ে হল গেটে নিয়ে আসে। কিন্তু তারা ঠিকই সেই জায়গায় অবস্থান করছে।’

ভোটের পরিবেশ কেমন এই প্রসঙ্গে ছাত্রদলের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘ভোটের পরিস্থিতি বলতে একজন ভোটারের যেখানে ৩ মিনিট দিছে ৭-৮ মিনিট সময় নিতাছে। আর লাইন আটকায় দিতাছে। এইটার কারণ আমি বুঝতে পারতেছি না।’অন্য ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী বলেন, ‘হলের যারা আছেন তারাই ভোট দিচ্ছে। আমি বাইরের কাউরে এখন পর্যন্ত দেখি নাই।’