• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘উর্দি’ নজরে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান!


প্রকাশিত: ৩:৪৩ পিএম, ২৫ জুলাই ১৮ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৭ বার

পাঞ্জাব থেকে জাভেদ ইকবাল : ‘উর্দি’র নজরে এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ইমরান খান। গণতন্ত্রের আড়ালে পাকিস্তানের সামরিক শক্তির নজর এখন ইমরানের দিকে। ভোটাররা বলছেন, ক্ষমতার লোভে এবার ইমরানকে বশ মানাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন সেনাপক্ষ অবলম্বনকারীরা। ইমরানও চান ক্ষমতার স্বাদ নিতে। ফলে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ ইমরান খানের কপাল এবার খুলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হলেও এর নেপথ্যে সব কলকাটি নাড়ছেন সেনাবাহিনী। দুটি রাজনৈতিক সরকার মেয়াদ পূর্ণ করার পর কে হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, প্রশ্নটা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। আপাতত এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন আদালতের নির্দেশে প্রধামন্ত্রীর পদ হারানো পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর নেতা শাহবাজ শরীফ ও পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান।

দেশটির রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা পাকিস্তানে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। তাই ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে ভিন্ন কিছুও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কদর বাড়তে পারে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো।

তবে পাকিস্তানে একথা বহুল প্রচলিত যে দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ পাচ্ছেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান। বিশেষ করে নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।

নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে মোট ২৭২টি আসন রয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৭০টি। সবমিলিয়ে জাতীয় পরিষদে ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে যে কোনও দলকে পেতে হবে অন্তত ১৭২টি আসন।

২০১৩ সালে সবশেষ নির্বাচনে ১৬৬ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল পিএমএল-এন সরকার গঠন করে। পরে প্রধানমন্ত্রী হন দলটির নেতা নওয়াজ শরীফ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগেই আদালতের নির্দেশে তাকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। এরপরও তার দল মেয়াদ পূর্ণ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ওই নির্বাচনে ৪২টি আসন পেয়ে পিপিপি দ্বিতীয় এবং ৩৫ আসন পেয়ে ইমরান খানের পিটিআই তৃতীয় স্থান লাভ করে।

তবে নওয়াজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি বিরোধী ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন ইমরান খান। সেই সুবাদে তিনি চলে আসেন দেশটির রাজনীতিতে মূল নায়কের ভুমিকায়। এখন নওয়াজকে জেলে রেখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

নির্বাচনে এখনো পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ আর ইমরান খানের পিটিআইয়ের মধ্যে। ৬৮ বছর বয়সী নওয়াজ শরীফ তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও কোনোবার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এখন তিনি ও তার কন্যা আটক আছেন পাকিস্তানে।

নওয়াজের ভাই পাঞ্জাবের সাবেক গভর্নর শাহবাজ শরীফ এখন দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। পিএমএল জয় পেলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জানান দলটির নেতা ও দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি।

এই দুজনের বাইরে আলোচনায় আছেন পিপিপি নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে কপাল খুলতে পারে তরুণ এই রাজনীতিবিদেরও।যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন পাঞ্জাবে তাদের ভালো করতে হবে। সংরক্ষিত আসন বাদে ২৭২ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি আসন এই প্রদেশেই। আর শাহবাজ শরীফ দীর্ঘ এক দশক এই পাঞ্জাবেরই গভর্নর ছিলেন। তাই তাকে পেছনে ফেলতে হলে ইমরান খানকে অবশ্যই পাঞ্জাবে ম্যাজিকাল কিছু করতে হবে।

যদিও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সুনজর ইমরানের দিকে আছে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। দেশটির মানবাধিকার কমিশন বলছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ব্যাপক চেষ্টা তাদের চোখে পড়েছে।১৯৪৭ থেকে সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের পালাবদল হয়েছে পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে সন্দেহের কেন্দ্রে এসেছে তার একটি কারণ হলো- আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ বেছে বেছে বিদায়ী সরকারের কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছে।আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, পাকিস্তানে বিচার বিভাগ বিভিন্ন আইন ব্যবহার করে বিদায়ী সরকারের ডানা কেটে দিয়ে বিরোধী পক্ষগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত আজিজ সিদ্দিকীর বক্তব্যেও বিষয়গুলো উঠে এসেছে। গত রবিবার রাওয়ালপিন্ডি বার এসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে বিচারপতি সিদ্দিকী বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। নওয়াজ শরিফকে যেন মুক্তি দেয়া না হয়, সেজন্য সংস্থাটি চাপ সৃষ্টি করে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিমকোর্টের আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন নওয়াজ শরিফ।নিম্ন আদালত তাঁকে দশ বছরের সাজা দিয়েছেন।কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফিরে জেলে গেছেন।এদিকে, বিচারপতি সিদ্দিকী এমন বক্তব্যও দিয়েছেন যে, তিনি আইএসআই এর বিরুদ্ধে সত্য কথা বলতে ভয় পাননা। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে যদি মেরে ফেলতেও চায়, তারপরও আমি ভয় পাই না।’

নির্বাচনের ফলাফল কোনো একটি দলের পক্ষে যাবে, তা স্পষ্ট নয়। ফলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তাতে প্রভাব খাটানো সুযোগ থাকে। এমন পরিস্থিতি তৈরির পিছনেও সামরিক বাহিনীর কৌশল রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আর এই প্রেক্ষাপটে নিরঙ্কুশ গণতন্ত্র আসলে অনেক দূরে বলেই বলা হচ্ছে।