• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আয়রনলেডির দৃঢ়তায় স্বপ্ন জোড়া লাগলো পদ্মাসেতুতে-


প্রকাশিত: ১২:৪০ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৩ বার

সরেজমিনে লাবণ্য চৌধুরী : অবশেষে আয়রনলেডি দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় স্বপ্ন জোড়া লাগলো। সত্যি হলো পদ্মাসেতুর স্বপ্ন। ৪২টি পিলারে সর্বশেষ ৪১টি স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে নদীর দুই পাড় যুক্ত হলো। দৃশ্যমান পুরো পদ্মা সেতুর ৬ হাজার ১৫০ মিটার। এর মাধ্যমে সংযোগ হয়েছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের। সর্বশেষ স্প্যানটি সফলভাবে স্থাপনের মাধ্যমে শেষ হলো পদ্মাসেতুর স্প্যান বসানোর কাজ।
এরপর সেতুতে রেলস্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। বিজয়ের মাসে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হলো গোটা বিশ্ব।

এর আগে ২০১৪ সালে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর নানা বাধাবিপত্তি আর জটিলতার সম্মুখীন হয় প্রকল্পটি। নকশা জটিলতা, নদীশাসন কাজে প্রাকৃতিক বাধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কারিগরি সমস্যা, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে ভাঙন, মহামারি ও বন্যা পরিস্থিতিসহ বেশ কিছু সমস্যা সেতুর কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সব কিছুকে পেছনে ফেলে সেতুর মূল কাঠামো আজ দৃশ্যমান হয়ে গেল।

মাওয়া প্রান্তের হোটেল ব্যবসায়ী আমীর হোসেন জাতিরকন্ঠ কে জানান, একসময় এটা স্বপ্ন মনে হতো। মনে হত আসলেই কি এটা হবে? মনে হয়েছিল এ নদীতে সেতু নির্মাণ অবাস্তব কল্পনা। কিন্তু চোখের সামনেই ধীরে ধীরে কাজ এগিয়ে গেছে।পদ্মাপাড়ের ট্রলার চালক বিল্লাল শেখ জানান, সেতুর কাজের শুরু থেকেই অনেকেই আসেন সেতুর কাজ ঘুরে দেখতে। ট্রলারের মাধ্যমে তারা সেতুর কাজ দেখে আনন্দ পান। চোখের সামনেই সেতুর সব কাজ দেখেছি। সারাদেশ এখন এ সেতুতে যানবাহন চালানোর অপেক্ষায় আছে।

সরেজমিনে আজ সকাল থেকে পদ্মার আকাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমলেও একটি স্প্যান থেকে আরেকটি স্প্যানের দৃশ্য চোখে অস্পষ্ট। শীতকে পাত্তা না দিয়ে অনেকে এসেছিলেন স্প্যান বসানো দেখতে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের বাড়তি উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।দেখা গেছে, সর্বশেষ স্প্যানটিতে চীন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। দুই দেশের সম্পর্ক অটুট রাখার বার্তা লেখা আছে বাংলা, ইংরেজি ও চীনা ভাষায়।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জাতিরকন্ঠ কে জানান, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সবগুলো স্প্যান বসানো সম্ভব হলো। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজে গতি বাড়বে। তখন স্ল্যাব বসানোর কাজেও গতি বৃদ্ধি পাবে। তখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিয়ে সোনার বাংলা ত্বরাম্বিত করবে।