• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আল্লাহর রহমতে ফণী’র তেজ নিঃশেষ


প্রকাশিত: ২:৫৫ পিএম, ৪ মে ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৭ বার

বিশেষ প্রতিনিধি :  আল্লাহর রহমতে অবশেষে ফণী’র তেজ নিঃশেষ; বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার দুপুরে পাবনা ও আশপাশের অঞ্চল হয়ে জামালপুর-শেরপুর হয়ে দিয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যাচ্ছে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।২৬ কিলোমিটার বেগে অতিক্রম করছে ৫৪ কিলোমিটার আয়তনের ঘূর্ণিঝড়টি। কেন্দ্রে ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ৬২ থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ কিলোমিটার। এর আগে ওড়িশায় আঘাত হেনে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সাতক্ষীরা উপকূল দিয়ে সকাল ছয়টায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড়-ফণির-প্রভাবে-ভারতের-অন্ধ্র-প্রদেশের-পোর্ট-সিটি-বিশাখাপত্তনমের-আকাশে-জমেছেকালো-মেঘ-

শনিবার সকাল ৯টায় অতিক্রম করে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ অঞ্চল। ফরিদপুর-ঢাকা অঞ্চল হয়ে এখন উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চাঁদপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৭ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর, চট্টগ্রামে ৬ এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।ওদিকে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের নিম্নাঞ্চল। আগামীকাল বিকাল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে ঝড়ের আগে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যারা উঠেছিলেন, শনিবার বিকাল থেকে তারা ঘরে ফিরতে পারবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অতিপ্রবল ঘুর্ণিঝড় ফণী শনিবার সকালে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। দুপুরে এটি গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে টাঙ্গাইল-মংমনসিংহ অঞ্চলে অবস্থান করছিল বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়।এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোর বিপদ সঙ্কেত নামিয়ে শনিবার দুপুর থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।তবে ঝড়ের কারণে বায়ুচাপের তারম্য এবং অমাবশ্যা সমাগত বলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুই থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া কয়েক লাখ মানুষের বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানিয়ে তাদের ঘরে ফেরার বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানায়।দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা ১৬ লাখের বেশি মানুষ বিকাল নাগাদ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে।ঝড়ে বরগুনা, ভোলা ও নোয়াখালীতে মোট চারজনের মৃত্যু এবং বিভিন্ন জেলায় ৬৩ জন আহত হওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।