• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আমলনামায় লালকালি ৩৬ মন্ত্রীকে ল্যাং-মারায় আমজনতার থ্যাংকস হাসিনাকে


প্রকাশিত: ৭:৫৩ পিএম, ৬ জানুয়ারী ১৯ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯৮ বার

শফিক রহমান : আমলনামায় লালকালি-বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিতর্কিত আচার আচরণ করে সরকার কে বিপাকে ফেলার খেসারতে এবার বোল্ড আউট হয়েছেন ৩৬ মন্ত্রী। বলা যায় সরকার দেশের স্বার্থে তাদের ল্যাং মেরেছেন। সরকার প্রধানের এই ডিসিশনে আম জনতা বাহবা দিচ্ছেন মমতাময়ী নেত্রী শেখ হাসিনাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জাতিরকন্ঠ প্রতিবেদক’রা আম জনতার কাছে বাদ পড়া ৩৬ মন্ত্রী সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা তাতক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এই সাহসী উদ্যোগের জন্যে। তবে সবচেয়ে বেশী মন্তব্য এসেছে সমালোচিত নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সহনীয় ঘুষ ও প্রশ্ন ফাঁসে বিতর্কিত- মন্ত্রী নাহিদ সম্পর্কে।

বিতর্কিত বোল্ড আউট ৩৬ মন্ত্রী-

মন্ত্রিসভা থেকে অবসরে গেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসে বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবার মনোনয়ন পাননি। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু,  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, খাদ্য মন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এ কে এম শাহজাহান কামাল বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।বাদ দুই উপমন্ত্রী হলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আরিফ খান জয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত নৌমন্ত্রী শাজাহান খান নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। একই মন্ত্রণালয়ে এবার কোনো মন্ত্রী না রেখে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে।অন্যদিকে প্রশ্নফাঁস আর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সিলেবাস বৃদ্ধি, জেএসসি-পিইসি পরীক্ষা চালুর কারণে ব্যাপক সমালোচিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও ঠাঁই পাননি মন্ত্রিসভায়। এবার তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. দীপু মনি। এ ছাড়া এ মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সরকারের অস্বস্থি সেই খান—

গত সরকারের সবচেয়ে সমালোচিত চিলেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। বলা যায় তার কারণে সরকারের অস্বস্থি ছিল শেষ সময়ে।এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তার মন্তব্য নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই ছিল বেশি। সারাদেশে পরিবহন খাতে একের পর এক নৈরাজ্যের পরও বারবার পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নেয়ায় তিনি সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়েছেন। নানা ইস্যুতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচিত-সমালোচিত শাজাহান খানের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে একসময়। তবে নিজের জায়গা ছাড়েননি তিনি।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস চাপায় দুজন প্রাণ হারায়, আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনা পর হাসিমুখে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।২০১১ সালের ১৪ আগস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন তিনজন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে শাহজাহান খান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকেরা দায়ী নন। অবৈধভাবে লাইসেন্স নেয়া অদক্ষ চালকদের কারণে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের বিষয় নিয়ে যখন দেশবাসী ক্ষুব্ধ, তখন মন্ত্রী এ মন্তব্য করে বসেন।

সহনীয় ঘুষ-প্রশ্ন ফাঁসে বিতর্কিত-নাহিদ

২০০৯ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন নাহিদ। ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শকদের প্রতিবেদন দেয়ার ক্ষেত্রে ‘সহনশীল মাত্রা’য় ঘুষ খাওয়ার বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ ছাড়া একের পর এক বোর্ড পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, জেএসসি-পিএসসি পরীক্ষা, পাঠ্যপুস্তকে ভুলসহ নানা কারণে সমালোচিত হন তিনি।২০১৩ এবং ২০১৪ সালে দেশে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নাহিদ সারাদেশে ব্যাপক সমালোচিত হন।