আবাসনে ধ্বস-১১ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত

স্টাফ রিপোর্টার : এবার রিহ্যাব আর্তনাদ করে বলেছে, আবাসনে ধ্বস অবস্থা চলছে। অবিক্রিত ১১ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাচ্ছেনা। তাছাড়া রড ইটের দামে আমাদের নাকাল অবস্থায় দেশের ব্যাংকগুলো’ও সুদের হার বাড়িয়ে ব্যবসা লাটে ওঠার যোগাড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি আবাসন খাতের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন এ কথা বলেন। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন তিনি।
শামসুল আলামিন বলেন, ১ বছরে রডের বাজার মূল্য প্রতি টনে বেড়েছে ২৩ শতাংশ। একইসঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ইটের দাম বেড়েছে প্রতি হাজারে ১ হাজার টাকা। এছাড়াও গত ৬ মাসে পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দামও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই মূল্য বৃদ্ধি আবাসন খাতের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন।রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে কোনো কোনো প্রকল্পের ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে জমির উচ্চমূল্য, সাইনিং মানির পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের উপর অধিক চাপ পড়বে। এতে সবার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হুমকির মুখে পড়বে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রীর দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়ায় শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে অনেক বেশি। এসবের চাপাচাপিতে স্থবির হয়ে পড়বে দেশের আবাসন খাত।’রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) বলেন, ‘বর্তমানে আরও একটি সমস্যা অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা দিয়েছে তা হল গৃহায়ন খাতে ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এই খাতের সুদ এক অংকের ঘরে কমিয়ে আনা হয়েছিল।
কিন্তু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদের হার আবারও বাড়াচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই হোম লোনের সুদের হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। ফলে আবাসন খাতে আবারও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।’এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রিহ্যাবের অবিক্রীত ১১ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে।’নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘নিন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসন খুব সহজেই সম্ভব যদি সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদের তহবিল থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা যায়।এ অবস্থায় আবাসন খাত রক্ষায় সরকারের হোম লোনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।সংবাদ সস্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ প্রমূখ।



