আফগান সরকার চামড়া বাঁচাতে তালেবানদের সাথে হাত মেলাচ্ছে

আন্তজার্তিক ডেস্ক রিপোর্টার : বিদেশী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হওয়ায় আফগান সরকার নিজেদের চামড়া রক্ষায় ও দেশবাঁচাতে তালেবানদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তাব দিয়েছে আফগান ক্ষমতাসীন সরকার। আলোচনা সূত্র বলছে, তিনদিনব্যাপী এ বৈঠকে শান্তি আলোচনা ফলপ্রসু হতে পারে। কারণ, আফগান সরকার কে রক্ষা করতে আর কেউ এগিয়ে আসছে না। ওদিকে আফগান সেনাবাহিনীও সরকারের সঙ্গে তেমনভাবে নেই। সেনাপ্রধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় বাধ্য হচ্ছে সরকার।
দেশে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্য নিয়েই আফগান সরকার তালেবানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বলে একটি শীর্ষ পর্যায় সূত্র আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন। কোনো উপায় না পেয়ে তালেবান গোষ্ঠী গজনি শহর দখল করার পর ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগান সরকার। এই নিয়ে তালেবানের হাতে এ পর্যন্ত ১০টি প্রাদেশিক রাজধানীর পতন ঘটেছে। আফগান সরকারের ওই সূত্র জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তালেবানের কাছে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক অফিস রয়েছে।
কাতারে গেছেন আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে আফগান সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
আল-জাজিরা টেলিভিশনের পাশাপাশি আফগানিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমও ক্ষমতা ভাগাভাগির খবর দিয়েছে তবে আফগান প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ থেকে খবরটি নিশ্চিত করা হয় নি বরং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে বলা হয়েছে- কাতারের রাজধানী দোহায় যেহেতু শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সে কারণে কাবুল তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন ঘটায় নি।
আফগানিস্তানের হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশন-এর চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকা, চীন রাশিয়া এবং আফগানিস্তানের নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এর আগে শান্তির ব্যাপারে তালেবানকে ‘সুস্পষ্ট বার্তা’ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আফগান সরকার। আফগানিস্তানের জাতীয় শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান ও তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় কাবুল সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এ আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। দোহায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকে আফগান সরকারের পাশাপাশি তালেবানের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। দোহায় তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাঈম বলেছেন, তাদের দোহা দফতরের উপ প্রধান মোলভি হানাফির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার প্রথম পর্বের বৈঠকে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, তালেবান শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব দেবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা তা লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধ ও সহিংসতার তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণাত্মক হামলা জোরদার করেছে।
দোহা বৈঠকে জালমাই খালিলজাদ মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তালেবান তাদের সব বন্দিকে মুক্তি দেয়ার যে আহ্বান জানাচ্ছে সে সম্পর্কে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, এর আগে তালেবান বন্দিদের মুক্তি দেয়ার ঘটনা যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সাহায্য করেনি। মুক্তিপ্রাপ্ত তালেবান সদস্যরা যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। আব্দুল্লাহ আরো বলেন, হাজার হাজার সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তারা আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। দোহা বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিদেশি প্রতিনিধিরা অবিলম্বে আফগানিস্তানে সহিংসতা ও যুদ্ধ বন্ধ করে জোরদারভাবে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, কাতার, ইরান, ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ বৈঠকে আরো দু’দিন চলবে বলে কথা রয়েছে।



