• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘আপনার তথ্য থানায় জমা দিন’


প্রকাশিত: ৫:০৭ পিএম, ১৫ জুন ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১০ বার

স্টাফ রিপোর্টার : ‘আপনার তথ্য থানায় জমা দিন, পুলিশকে সহায়তা করুন, নিজে নিরাপদ থাকুন অন্যকে নিরাপদে রাখুন । সন্ত্রাস, উগ্রবাদ এবং অপরাধের হুমকি থেকে এই মহানগরীর মানুষকে সুরক্ষিত রাখুন’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হলো ঢাকা মহানগরে বসবাসরত সম্মানিত নগরবাসীর তথ্য সংগ্রহের জন্য নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ-২০১৯। ১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। ডিএমপি’র ৫০টি থানার ৩০২টি বিট থেকে একযোগে সংগৃহীত হবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ কার্যক্রম। এই নাগরিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়েছে ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার বেলা ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ ২০১৯’ উদ্বোধনকালে নগরবাসীর প্রতি এমন আহবান জানান তিনি।

নাগরিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে নাগরিকদের তথ্য ডাটাবেজ সংগ্রহ করা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার জন্য, কোন অপরাধ প্রতিকার, প্রতিরোধ এবং উদঘাটনের জন্য। বিলম্ব হলেও আমরা ডিএমপি ২০১৬ সাল থেকে অফিসিয়ালি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছি। ইতোমধ্যে আমরা ২২ লাখ পরিবারের ৬৩ লাখ নাগরিকের তথ্য সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস্ (সিআইএমএস) এর সংরক্ষিত আছে।

১৩ জুন ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত সিআইএমএস সফটওয়ারে বাড়ীওয়ালা ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটিয়া ১৮,২০০৯৪ জন, মেস সদস্য ১ লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, অন্যান্য ১১শ জন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন ও ড্রাইভার/গৃহকর্মী ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন সর্বমোট ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এই সিস্টেমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক ইনডেস্ক নম্বর দেয়া আছে। সেই নম্বর দিয়ে সিস্টেমে সার্চ দিলে কাঙ্খিত নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ করতে হলে রাষ্ট্রের অনেক টাকা খরচ হতো জানিয়ে কমিশনার বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের কোন রকম অর্থ ব্যয় ছাড়া পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে নগরবাসীর তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছে। আমরা নাগরিকদের কাছ থেকে গৃহীত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করছি। ৩ বছরে কোন নাগরিকের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে আমরা সচেষ্ট আছি।নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহের গুরুত্ব সম্পর্কে কমিশনার বলেন, বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি অনেকে নাগরিক তথ্য দিতে গরিমষি করছে। নাগরিক তথ্য সংগ্রহ শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আবারও নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু করছি।

১৫ থেকে ২১ জুন প্রতিটি থানার বিটে বিট অফিসার ঐ এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধি কমিউনিটি পুলিশের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে এলাকার প্রতিটি বাড়ি যাচাই করে দেখবে নাগরিক তথ্য প্রদানে কেউ বাদ পড়েছে কি না। কেউ বাদ পড়লে তাকে তথ্য ফরম দিয়ে সেই ফরমে তথ্য পুরণ করে ফেরত নিবে। এরপর ২১ জুন থেকে পরবর্তী ৭ দিন ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে গঠিত সার্ভিলেন্স টিম র‌্যামডম সিলেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন বাসায় যাচাই করে দেখবে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা তাদের লেখার ও প্রচারের মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করতে পারেন।