• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আকস্মিক যশোরে উদ্ধার সাংবাদিক কাজল


প্রকাশিত: ২:৫৫ পিএম, ৩ মে ২০ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২২০ বার


বিশেষ প্রতিনিধি /বেনাপোল প্রতিনিধি : অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ৭ সপ্তাহ পর ফটো সাংবাদিক ও ‘পক্ষকাল’ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলতে বেনাপোল বন্দর থানার সাদিপুর সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে বিজিবি তাকে আটক দেখিয়ে রবিবার সকালে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। শনিবার রাতে বিজিবি সদস্যরা বেনাপোল থেকে তাকে উদ্ধার করে।জাান গেছে, বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের নামে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে একটি মামলা করেছে বিজিবি। এই মামলায় তাকে যশোরের আদালতে পাঠিয়েছে বেনাপোল বন্দর থানা পুলিশ।

রবিবার (৩ মে) সকালে বেনাপোলের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্প তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল থানায় সোপর্দ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে যশোরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা নম্বর-৫।বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মামুন খান জানান, সাংবাদিক কাজলকে রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক এবং অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তর করে। ওই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে কীভাবে তাকে পাওয়া গেল এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। বেনাপোলের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্প তাকে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি কমান্ডার সুবেদার আশেক আলী। তিনি জানান, বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশের সময় সাংবাদিক কাজলকে আটক করা হয়। তাকে আমাদের হেফাজত থেকে পুলিশের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছে।এদিকে কাজলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফোনে কাজলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বেনাপোল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই স্বজনরা তাকে নিতে বেনাপোলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

জানা গেছে, ফটো সাংবাদিক ও ‘পক্ষকাল’ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ‘পক্ষকাল’ অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। ১৩ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় পরিবার। ১৮ মার্চ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক কাজলের সন্ধান চাওয়া হয়। ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক। সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকদফা কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজের একমাস পর ৯ এপ্রিল সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি বেনাপোলেই চালু হয়েছিল। তখন কাজল নিখোঁজের বিষয়টির তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মুন্সী আবদুল লোকমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি চালু হয়েছিল। লোকেশন দেখিয়েছে বেনাপোল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ও নম্বরটি চালু থাকার সময় কম হওয়ায় বেনাপোলে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।’