• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আকবরদের যাদুতে টাইগারদের বিশ্বজয়


প্রকাশিত: ১২:৪৫ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/ স্পোর্টস রিপোর্টার : আকবরদের যাদুতে শেষশেষ টাইগাররা বিশ্বজয় করেছে। যুব টাইগারদের এই জয়ে অভিন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুব বিশ্বকাপে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আকবর আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিন উইকেটে বিশ্বজয় করে বাংলাদেশ। জয় থেকে যখন মাত্র ১৫ রান দূরে তখন বৃষ্টি নামে পচেফস্ট্রুমের আকাশে। বৃষ্টিতে খেলা না হলে চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশই। আবার শুরু হওয়ায় বৃষ্টি আইনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র সাত রানে। যা নিতে আকবর আলীদের কোনো কষ্টই হয়নি।অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন আকবর, তার ৭৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংসেই মূলত জয় পেতে সহজ হয়। যুবাদের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

বৃষ্টির কারণে বন্ধ রয়েছে খেলা। আর খেলা না হলে বৃষ্টি আইনে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে বন্ধ রয়েছে খেলা। আর খেলা না হলে বৃষ্টি আইনে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৮ রানে। বৃষ্টির আগ পর্যন্ত যুবাদের সংগ্রহ সাত উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান। ক্রিজে আছেন আকবর আলী ৪২ ও রাকিবুল হাসান ৩ রানে। ওভার বাকি আছে ৯টি। যদি খেলা শুরু হয় তাহলে সাত রান করলেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলীকে যুব বিশ্বকাপে তেমন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। হয়তো সবকিছু জমা ছিলো ফাইনালের জন্যই। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের মহারণে এই আকবরের দিকেই তাকিয়ে আছে ষোলো কোটি বাঙালি, তার ব্যাট হাসলেই যে হাসবে গোটা বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছিল তার ব্যাটে। সঙ্গে ছিলেন আকবর আলী। কিন্তু না, স্বপ্ন জয় করে ফিরতে পারলেন না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৭ রান করে জয়সওয়ালের বলে আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশকে চাপে ফেলে।ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন ওপেনার ইমন। ষষ্ঠ উইকেটে অভিষেক দাস আউট হওয়ার পর আবারও ক্রিজে আসেন ব্যাট করতে। সঙ্গে আছেন অধিনায়ক আকবর আলী। এ দুজনের ব্যাটেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ।

এক রবি বিষ্ণুর বোলিংয়ের কোনো জবাব নেই যেনো বাংলাদেশের যুবাদের কাছে। বিষ্ণু একাই চার উইকেট নিয়ে ধস নামিয়ে দেয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তার ঘুর্ণির শিকার হয়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন তামিম, জয়, হৃদয় ও শাহাদাত। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়া ইমন আবারও মাঠে ফিরেছেন ব্যাট হাতে।শামীমের সঙ্গী হলেন অভিষেক দাসও। বোলিংয়ে দুর্দান্ত করা এই বোলার মিশ্রার বাউন্স উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন কার্তিক তিয়াগির হাতে।প্রয়োজন ছিলো ক্রিজে থাকা অধিনায়ক আকবর আলীকে সঙ্গ দেওয়া। সঙ্গতো দেননি উলটো দলকে বিপদে ফেলে অযথা মারতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন শামীম হোসেন। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে সাত রান।

রবি বিষ্ণু আবারও আঘাত হানলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে। বিষ্ণুর বলে উইকেটরক্ষক ধ্রুব জুরেলের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে মাত্র ১ রান করে ফেরেন শাহাদাত হোসাইন।বাম পায়ের শিরায় টান পড়লে আর ব্যাটই করতে পারেননি ওপেনিংয়ে নামা পারভেজ হোসেন ইমন। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ২৫ রান। চারটি চারের মারে তিনি ইনিংসটি সাজিয়েছেন। ব্যাটিং করতে এসেছেন নতুন ব্যাটসম্যান শাহাদাত।সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে আসা জয় আজ ফেরেন মাত্র আট রান করেই। বিষ্ণুর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। জয়ের পর ব্যাটিং করতে এসে হৃদয়ও শিকার হন বিষ্ণুর। তিনি ফেরেন ০ রানে।

টার্গেটে খেলতে নেমে দুই ওপেনার তামিম ও ইমনের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। দলীয় ৫০ রান করে ফেলে ৯ ওভারেই। রবি বিষ্ণুর বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন তানজীদ হাসান তামিম।আইসিসি আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের যুবারা। ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিং করে যুবারা ১৭৭ রানের বেশি করতে দেননি ভারতকে। টাইগার বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইতিহাস সৃষ্টির খুব কাছে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, এবার ব্যাটসম্যানদের পালা। ১৭৮ রান করতে পারলেই বিশ্বকাপ নিয়েই ঘরে ফিরবেন আকবর আলীরা।

পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েজ পার্কে আজ রোববার টস জিতে ফিল্ডিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলী। শুরুতেই কৃপণ বোলিংয়ে ভারতীয়দের চেপে ধরে যুবা টাইগাররা। প্রথম সাত ওভারে মাত্র ৯ রান নিতে পেরেছে ভারত। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই ওপেনার সাক্সেনাকে সাজঘরে পাঠান অভিষেক দাস। ৯ রানে এক উইকেট হারিয়ে বাজে শুরু করে ভারত। তবে ক্রিজে থাকা ওপেনার জয়সওয়াল নতুন ব্যাটসম্যান তিলক ভার্মাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিলক ৩৮ রানে আউট হলে ভাঙে ৯৪ রানের জুটি। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে যুবারা।

তবে ক্রিজে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জয়সওয়াল। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান আজও দাড়িয়ে গিয়েছিলেন।জয়সওয়াল আউট হওয়ার পর ভারত বাকি ছয় উইকেট হারায় মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে। শরীফুলের জোড়া আঘাতের পর জোড়া রানআউট মূলত ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।ধ্রুব জুরেল চেষ্টা করছিলেন কিন্তু তিনি ২২ রানের মাথায় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন অভেষেক দাস। তিনি হাসান মুরাদের পরিবর্তে আজ একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন। ৯ ওভারে মাত্র ৪০ দিয়ে নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম ও তানজীম হাসান সাকিব।

আকবরের যাদু-দর্শকদের কৃতজ্ঞতা

আকবর আলীর ব্যাটেই প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ১৭৮ রানের সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়ার পর দলকে খেলায় ফেরানোর পাশাপাশি জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে অনবদ্য ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে ৭৭ বলে ৫টি চার ও এক ছক্কায় ৪৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার জেতেন আকবর আলী।

পুরো টুর্নামেন্টে অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য দেখালেও ব্যক্তিগতভাবে তেমন কোনো সাফল্য পাননি আকবর আলী। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয় উপহার দেন আকবর।বিশ্বকাপ জয়ের পর ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ দলের জয়ের নায়ক অধিনায়ক আকবর আলী বলেন, ‘হঠাৎ অনেকগুলো উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আমাদের প্রয়োজন ছিল জাস্ট একটা জুটির। তাই পরিকল্পনা ছিল আমাদের একটা জুটি গড়ার। আমি আমার পার্টনারদের এ বিষয়টাই বলেছি। আমরা শুধু স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছি’।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোচিং স্টাফ অনেক কষ্ট করেছে। আমাদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং কোচরা আমাদের খুবই উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার টার্গেট বছর দেড়েকের মধ্যে আরও ভালো কিছু করার। আমি ভবিষ্যত ক্রিকেটে আরও ভালো অবদান রাখতে চাই’।শেষ দিকে ধারাভাষ্যকারের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশি দর্শকদের উদ্দেশে বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের অগণিত দর্শকদের উদ্দেশে বাংলায় আকবর আলী বলেন, আমি দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সঙ্গে ছিলেন।