• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

অযোগ্য পিপি- লেজেগোবরে..


প্রকাশিত: ১২:৩৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ১৯ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২৫ বার

বিশেষ প্রতিনিধি :  অযোগ্য পিপি প্রশ্নবানে লেজেগোবরে হয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন। এনিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।এর জের ধরে কর্তব্যে অবহেলা ও দায়িত্বহীন আচরণের জন্য ঢাকা জেলার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর-পিপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে অব্যাহতি দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা জেলার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে কর্তব্যে অবহেলা এবং দায়িত্বহীন আচরণের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।বৃহস্পতিবার থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্তব্যে অবহেলা এবং দায়িত্বহীন আচরণের বিষয়ে চিঠিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য না থাকলেও জানা গেছে, বুধবার একটি অনলাইন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ‘ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় তার বাবা অজয় রায় সাক্ষ্য দিতে যেতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটির বিচার ঝুলে যাচ্ছে।’ এ বিষয়ে বুধবার রাতে একাত্তর টিভির সংবাদ বিশ্লেষণ মূলক লাইভ অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের পিপি জাহাঙ্গীর আলমকে যুক্ত করে।

এ সময় টিভি স্টুডিওর উপস্থাপিকাসহ ডায়াসের দুজন সাংবাদিক পিপির কাছে জানতে চান, এ ঘটনা ঘটার কতদিন পর মামলাটি বিচার পর্যায়ে এসেছে? বা মামলাটি বিচার পর্যায়ে আসতে কতদিন লেগেছে?। বার বারই পিপি এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে অন্য বিষয়ে চলে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে একজন স্টুডিও থেকে প্রশ্ন করেন অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড কতদিন আগে ঘটেছে। তখন পিপি বলেন, ‘এক দেড় বছর আগে।’ তখন ডায়াসের সবাই হতবাক হয়ে যান।এক পর্যায়ে উপস্থাপিকা বলেন, ‘এটা চার বছরেরও বেশি সময় আগে ঘটেছে।’ তখন পিপি বলতে থাকেন, ‘আমি তো অফিসিয়ালি বসিনি, অফিসিয়ালি হলে তারিখ জানাতে পারতাম।’

তখন একজন সাংবাদিক বলেন, ‘এ হলো রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অবস্থা। অত্যন্ত দু:খজনক।’ এরপর ডায়াসে উপস্থিত একজন সাংবাকি জানতে চান, ‘সাক্ষী হাজির না হলে কমিশন করে বিচার করা যায় কিনা? এছাড়া বাদীর সঙ্গে কখনও দেখা করেছেন কিনা?’ এসব বিষয়ে এলোমেলো ও অযৌক্তিক জবাব দিলে ডায়াসের একজন সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাকে কে নিয়োগ দিয়েছে? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব নেই, বাদীর সঙ্গে দেখা করার? কিভাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হলেন এ মামলায়?’

জবাবে পিপি বলেন, ‘আমাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।’ তখন ডায়াসের একজন সাংবাদিক বলেন, ‘সরকার নিয়োগ দেয় কি করে? ঘটনা কবে ঘটেছে সেটাই বলতে পারছেন না? আপনাদের মতো আইনজীবী দিয়ে মামলা চলে কি করে?’ এছাড়াও পিপির বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য শুনে টিভি ডায়াসের সাংবাদিকরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এই যদি অবস্থা হয়, মামলা কবে হয়েছে তাও যদি না জানে, তাহলে ন্যায় বিচার হবে কি করে? আর এজন্যই হয়তো অধ্যাপক অজয় রায় কোর্টে যেতে চাচ্ছেন না।’

আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্তব্যে অবহেলা ও দায়িত্বহীন আচরণের জন্য ঢাকা জেলার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ইসমত জাহান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অব্যাহতির এই আদেশ আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়েছে।