• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

অবৈধ সুবিধা-আটকে গেল লুনা-মিল্লাত


প্রকাশিত: ৬:১৭ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩২ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : দুর্নীতি মামলা ও চাকরীতে সুবিধা নেয়ার রেশ না কাটিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন মিল্লাত ও লুনা। কিন্তু বিধি বাম-আদালত আটকে দিয়েছে তাদের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপি অন্য কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে এবার জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনে রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনা’র নির্বাচন আটকে দিয়েছে আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তাঁর নির্বাচন করা আটকে গেছে।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুরশিদ আলম খান বলেন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত। পরে তিনি এই মামলায় আপিল করে খালাস পান। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ তা পুন:শুনানির জন্য পাঠায়।

এই কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিল্লাতের মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।খুরশিদ আলম আরো জানান, এই অবস্থায় আজ শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেছেন। ফলে তিনি আর নির্বাচন করতে পারছেন না।

ওদিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পার না হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রার্থী ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনার মনোনয়ন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও মহাজোট প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লুনার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।

এর আগে হাইকোর্টের রায়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার পরও নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজগর আলী, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের প্রার্থী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনের প্রার্থী আফরোজা খান রিতা। এবার আটকে গেলেন ইলিয়াস-পত্নীও।

লুনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করতেন। সেখান থেকেই তিনি অবসরে যান। অবসর নেওয়ার তিন বছর পার না হওয়া সত্ত্বেও সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করা হয় বলে জানান আইনজীবীরা।এর আগে ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে দুবার আপিল করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এহিয়ার আপিল খারিজ করে দেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আসেন।

এ বিষয়ে লুনার ব্যক্তিগত সহকারী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব এবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে বিএনপি লুনাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করলে তাঁর ছেলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

এ আসনে ২০ দলের শরিক খেলাফত মজলিসের নেতা মুহাম্মদ মুনতাছির আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন। তাঁর মার্কা দেয়াল ঘড়ি। তিনি জোট থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।এ ছাড়া গণফোরামের মোকাব্বির খান (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মনোয়ার হোসাইন (আম) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মো. মোশাহিদ খান (টেলিভিশন) প্রতীক পেয়েছেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন তিনি। তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে রাজনৈতিক মামলায় তিনি সাত মাস জেলও খাটেন।