অবৈধ খ্যাপ মারলে জেল জরিমানা বাইকারদের

বিশেষ প্রতিনিধি : অবৈধ খ্যাপ মারলে জেল জরিমানা করা হবে বাইকারদের।দেখা গেছে, অ্যাপের ব্যবহার ছাড়াই অনিবন্ধিত বাইকচালকে ছেয়ে গেছে পুরো রাজধানী। বাইকচালকরা প্রায় অর্ধশত জায়গায় নিজেদের মতো গড়ে তুলেছে বাইকস্ট্যান্ড। বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) বলেছে, এসব বাইকচালকদের কারণে রাজধানীজুড়ে বেড়েছে যানজট। অ্যাপের বাইরে ভাড়ায় চালালে জেল, জরিমানা এমনকি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে চালকেরা বলছেন, মহামারীকালে সরকার কঠোর হলে তাদের পথে বসতে হবে।
কোনো রিকশা বা সিএনজি চালক নয়, যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করছেন একজন বাইকচালক। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে এমন দৃশ্য এখন সাধারণ বিষয়। প্রাথমিকভাবে উবার, পাঠাওয়ের মতো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়ায় যাত্রী চলাচল শুরু করলেও সময়ের বিবর্তনে ভাটা পড়েছে অ্যাপের ব্যবহারে। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে নিজদের দাঁড়ানোর জন্য একটি অঘোষিত লেনও তৈরি করে নিয়েছেন তারা।
এছাড়া রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব বাইকস্ট্যান্ডগুলোতে নিজেরাই নির্ধারণ করে নিচ্ছেন ভাড়া। পুলিশ বলেছে, অনিবন্ধিত উপায়ে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালানোর সুযোগ দিতে পারে না সরকার। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার মতো কোনো আইন নেই প্রচলিত ট্রাফিক নীতিমালায়।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক, দক্ষিণ) যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের এবং আমাদের পক্ষ থেকে অনিবন্ধিত কোনো কিছুর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না। এটি একটি নিয়ন্ত্রণের আওতায় অবশ্যই আসতে হবে। কিন্তু প্রচলিত যে ট্রাফিক আইন আছে, সেখানে অনিবন্ধিত চালকদের বিরুদ্ধে আমাদের নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ দিকে বিআরটিএ বলছে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক হয়ে যাওয়ায় এ সব চালকেরা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অ্যাপের বাইরে ভাড়ায় চালালে কঠিন আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিআরটিএ এর (রোড সেফটি) পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেছেন, আমি বাসা থেকে অফিসে একা একা আসব। এ সময় কাউকে রাইড সেয়ারিং করে আসলে হয়তো আমার মোটরসাইকেলের খরচটা উঠে আসবে। এ সেবাটাকে বাদ দিয়ে মানুষ এখন ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে তারা যানজটের সৃষ্টি করছে। সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় তাদের জেল, জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যানজটের পেছনে তারা দায়ী নন বলে দাবি বাইক চালকদের।
তারা বলছেন, রাস্তার পাশে যদি কোনো জায়গা পাই, সেখানে আমরা পাশ করে দাঁড়াই। দাঁড়ানোর জন্য কিন্তু আহামরি জায়গা লাগে না। আমরা যেখানে রাখি, সেখানে কখনও কোনো গাড়ি আসে না। করোনা অন্তর্বর্তী সময়ে অনেক মানুষ অভাব অভিযোগের মধ্যে আছে। এখন যদি সরকার এ ধরনের চাপ দেয়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে বলে জানান আরেকজন বাইক চালক।এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার দাবি জানিয়েছেন চালকেরা।



