পল্লীনিবাসের লিচুতলায় এরশাদের সমাধি
বিশেষ প্রতিনিধি রংপুর থেকে : অবশেষে রংপুরে পল্লীনিবাসের লিচুতলায় এরশাদের সমাধি হচ্ছে। রংপুরবাসীর দাবিই সত্য হলো। অছিয়ত অনুযায়ী নিজ এলাকা রংপুরেই দাফন করা হচ্ছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সদ্য প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। এর আগে একমাত্র অনলাইন দৈনিক জাতিরকন্ঠ’ই লিখেছিল-অছিয়ত অনুযায়ী রংপুরেই এরশাদের দাফন হবে।
যাহোক মঙ্গলবার দুপুরে জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। তিনি জানান, রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। পাশে তার জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধও করেন রওশন এরশাদ।
এর আগে রংপুরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টা ২৮মিনিটে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে হয়। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জাপাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস আলী।
এরশাদের দাফন নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় নেতাকর্মী ও এরশাদের ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে। তারা লাশবাহী গাড়ির চারদিক ঘিরে রাখেন। তাদের প্রিয়নেতা এরশাদের লাশ রংপুরের মাটিতে দাফনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। লাশবাহী গাড়িটি পল্লীনিবাসের দিকে নিয়ে যেতে চান তারা। তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
মাইকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছিলো- যে কোনো মূল্যে এরশাদের দাফন হবে রংপুরে। একপর্যায়ে লাশবাহী গাড়িটি ধীরে ধীরে পল্লী নিবাসের দিকে এগুতে থাকে। লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে ছিলেন এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমার রাঙ্গা ও সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ নেতৃবৃন্দ।এর আগে, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসে অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে মরদেহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে মানুষের ভিড় ঢেলে রংপুর কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ রংপুরবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ফের ঢাকায় আনা হবে। বাদ-আসর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।গত রোববার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ওইদিন বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এরশাদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।
সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজা শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতির মরদেহ রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের দেখার জন্য রাখা হয়। এরপর বাদ আসর বায়তুল মোকাররমে তৃতীয় জানাজা শেষ হয়।এদিকে, এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুর নগরের সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া রংপুরে এরশাদের মরদেহ আনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে রংপুর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।



