• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

অনুমোদনহীন ম্যাক্স হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু


প্রকাশিত: ২:৩৪ পিএম, ২ জুলাই ১৮ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১২ বার

 

 

প্রদীপ শীল  :  চট্টগ্রামে অনুমোদনহীন ম্যাক্স হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু নিয়ে তোলাপড় চলছে। ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্ব অবহেলায় max-hospital-chittagong-www.jatirkhantha.com.bdচট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে দৈনিক সমকাল পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক রুবেল খানের শিশু কন্যা রাইফা খানের মৃত্যু হয়। অথচ স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নেই ম্যাক্স হাসপাতালের।এদিকে ঘটনার তদন্তে আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতারা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে ১ জুলাই, রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের বিক্ষোভ করেছে সংবাদমাধ্যম কর্মীরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে নগরীর মেহেদীবাগস্থ অভিযুক্ত ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা।ঘটনা তদন্তকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল অভিযুক্ত ম্যাক্স হাসপাতাল চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ত্রুটি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে।

রবিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ মো. মনজুরুল রহমান ও মাকসুদুল রহমান রাইফার মৃত্যু ঘটনা তদন্ত করতে আসেন। রাত ৯টার দিকে তারা ম্যাক্স হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন।সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, রাত ৯টার দিকে ম্যাক্স হাসপাতালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএমএ নেতারা তদন্তে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা, তদন্তে আসা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সামনে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে নেতারা বাধ্য হয়ে বৈঠক বয়কট করে রাস্তায় নেমে আসেন।

সেসময় সাংবাদিকরা বিএমএ কতিপয় নেতার অপসারণ, ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধসহ শিশু রাইফা হত্যার বিচার দাবি করে শ্লোগান দেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা অবস্থানের পর সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মেহেদীবাগ, কাজীর দেউড়ি হয়ে জামালখান প্রেসক্লাবে এসে রাইফা হত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে কমিটির প্রধান সিভিল সার্জন আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন। পরে এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসা তদন্ত টিমও প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে ম্যাক্স হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। তারা হাসপাতাল পরিচালনার জন্য অধিদফতর ও বিএমডিসির কোনো অনুমোদনই নেয়নি।। এ বিষয় আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে ম্যাক্স হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সিনিয়র সহসভাপতি মাঈনুদ্দিন দুলাল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স‍াধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ।

প্রসঙ্গত, ঠান্ডাজনিত কারণে গলা ব্যথা করায় খাওয়া বন্ধ করে দিলে গত ২৮ জুন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ৩ বছরের শিশু রাইফা খানকে। রাতে রাইফাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে সে অস্বস্তি বোধ করে।বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা শিশু বিশেষজ্ঞকে কল দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান বড়ুয়া এসে একই ধরনের ওষুধ দেন। রাতে ওই ওষুধ দেওয়ার পর থেকে রাইফার খিঁচুনি শুরু হয়।

দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানালে তিনি ডা. বিধান বড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে ‘সেডিল’ ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর রাইফা নিস্তেজ হয়ে যায়। রাইফার মৃত্যু পর সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সসহ তিনজনকে আটকের পরে গভীর রাতে তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।