• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

অধ্যক্ষ মাহফুজা খুনের নেপথ্যে কে?


প্রকাশিত: ১:২৭ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০০ বার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যাকারীদের পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায়ও ধরতে পারেনি। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে কাজের মেয়েদের সন্দেহ করছে। কিন্তু আসলে কি তাই? তা নিয়ে চলছে নানা রহস্য। নিহত মাহফুজা মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামার স্ত্রী। ঘটনার নেপথ্যে তাঁর কি কোনো ভূমিকা আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সুকন্যা টাওয়ারের ১৬ সি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর আলমারিতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। আর এতেই পুলিশ ধারণা করছে, পলাতক গৃহপরিচারিকারা স্বর্ণালঙ্কার চুুরির জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।ইতিমধ্যেই তাদের আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।

আজ সোমবার সকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহের তীর ওই দুই গৃহকর্মীর দিকেই। ওই ঘটনার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তারা পালিয়ে যায়। এর পরই তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। গতকাল সারা রাতই অভিযান চলে। আশা করছি, দ্রুত তাদের আটক করা সম্ভব হবে।’এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে উপকমিশনার বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হতে পারে। এই ঘটনাটি পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব ছায়া তদন্ত করছে। পলাতক দুই গৃহকর্মী হলেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর স্বপ্না। তার বয়স আনুমানিক ৩৬। আর কিশোরগঞ্জের রেশমির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গামা বাসায় ঢোকেন-

নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ওই বাসায় তিনজন গৃহকর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারীটি বাসায় আছেন। বাকি দুইজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এদের একজনের বয়স ৩০ এবং অন্যজনের বয়স ৩৫ বছরের মতো। মাহফুজা চৌধুরীকে ১৬তলায় তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, তার মুখে বালিশচাপা ছিল। বিছানায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুই গৃহপরিচারিকা আলমারি থেকে মূল্যবান কিছু নিয়ে গেছে।

ঘটনার পর ওই বাসায় গিয়ে ইসমত কাদির গামাকে পাওয়া যায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ১৬ তলার দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে বন্ধ। পরে নিচে নেমে অনেক ডাকাডাকির পর বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। দুই গৃহকর্মী স্ত্রীকে হত্যার পর টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ করে ইসমত কাদির গামা বলেন, বাসায় ঢুকে খাটের ওপর স্ত্রীকে শুয়ে থাকতে দেখেন। দেখি তার পা খাট থেকে ঝুলে আছে। পরে ঘটনা বুঝতে পারি।

ঘরের আলমারি খোলা দেখতে পান জানিয়ে গামা বলেন, আলমারি বেশ বড় অংকের টাকা ছিল সেগুলো নিয়ে গেছে। আর ওই গৃহকর্মীদের ছবি তোলা হয়েছিল একটি মোবাইলে, সেই মোবাইলটাও নিয়ে গেছে। বাসায় থাকা গৃহকর্মীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আছি, তুমি ঘুমাও- ওই দুইজনের এই কথায় তিনি ১৫ তলার একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন।

মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তাঁরা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস। তাঁদের দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, আরেকজন ব্যাংকে চাকরি করেন বলে জানান স্বজনেরা। তাঁরা এখানে থাকেন না। বাড়িতে তিনজন গৃহকর্মী ছিলেন।