• সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬

এবার তারেক জিয়ার বিচারের পালা-


প্রকাশিত: ৬:৩২ পিএম, ৯ এপ্রিল ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬০ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : বিদেশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে কলকাঠি নেড়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রকারী তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি খতিয়ে দেখছে সরকার। খুব শিগগির এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ সম্পর্কে বলেছেন, তারেক রহমান যে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, সেই মামলার বিষয়গুলো তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়।

আমরা ব্রিটিশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের যে সব তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। আদালতের রায়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এবং তার অপরাধের ব্যাপ্তি ও প্রভাবের ব্যাপারে যেসব পর্যবেক্ষণ এসেছে, সেগুলো জানিয়ে আমরা তারেক রহমানকে সোজা বাংলায় ফেরত চেয়েছি।

এসময় দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার প্রসঙ্গে এলে অনেকদিন ধরেই সরকার বলছে যে তারা বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে চান। কিন্তু বাংলাদেশের এই উদ্যোগের ব্যাপারে সম্প্রতি ব্রিটেনের এক মন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে যা বললেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে-বাংলাদেশের অনুরোধ রক্ষা হচ্ছেনা সেখানকার ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে।

ব্রিটেনের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের একজন মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ করার পর সরকার এখন বলছে, প্রয়োজনে এরকম চুক্তি করতেও তারা প্রস্তুত।তারেক রহমান গত প্রায় ১১ বছরের বেশি সময় ধরে লন্ডনে আছেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে তার বিরুদ্ধে অনেকটি দুর্নীতির মামলা রুজু করে।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুরোনো মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলাসহ আরও কিছু মামলা।এর মধ্যে তারেক জিয়া তিনটি মামলায় দণ্ড পেয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আদালতে এসব মামলার বিচারে তার সাজা হয়। এখন বাংলাদেশে ফিরলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে।

তারেক জিয়ার এই যে অবস্থা সে বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তারেক রহমান যে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, সেই মামলার বিষয়গুলো তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়।আমরা ব্রিটিশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের যে সব তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। আদালতের রায়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এবং তার অপরাধের ব্যাপ্তি ও প্রভাবের ব্যাপারে যেসব পর্যবেক্ষণ এসেছে, সেগুলো জানিয়ে আমরা তারেক রহমানকে সোজা বাংলায় ফেরত চেয়েছি।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ওদিকে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানিয়েছে, সে বিষয়ে ব্রিটেনের দিক থেকে কোন নিশ্চিত খবর প্রথম জানা যায় ব্রিটেনের ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের মন্ত্রী মার্ক ফিল্ডের ঢাকা সফরের সময়। ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাতের সময় মিস্টার ফিল্ডকে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কেসের ব্যাপারে তারা কথা বলেন না। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে বাংলাদেশের দিক থেকে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর একটি অনুরোধ তারা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের দুটি কথা বলেছিলেন। প্রথমত: বিষয়টি ব্রিটেনের হোম অফিস এবং আদালতের ব্যাপার, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আইন অনুযায়ীই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দ্বিতীয়ত তিনি বাংলাদেশ এবং ব্রিটেনের মধ্যে যে কোন বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

ব্রিটেনের এই বক্তব্যের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, দুদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টি তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর পথে বাধা হতে পারে না। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বলছে যে এটা হোম অফিসের বিষয় এবং এটা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত, তখন আমাদের কথা হচ্ছে যে এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আরেকটু ভাল সহযোগিতা আশা করি । কারণ এটা বলে দায়িত্ব এড়ানোর এখানে কোন সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় অনেক ব্রিটিশ নাগরিকের নানা অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের কনস্যুলার সেবা নেয়ার সুযোগ দিয়েছি, আইনগত সব সুযোগ দিয়েছি। এই বন্ধুত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।আর দুই দেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার যে প্রশ্ন এসেছে, সে ব্যাপারে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ফেরত নিতে চুক্তি না থাকাটা কোন বাধা হয় না। এর আগে আমরা একাধিক দেশের নাগরিককে ফেরত দিয়েছি, এরকম নজির আছে। আর চুক্তির কথা বললে, আমরা সেটা করার জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা নিয়ে জেলে যাওযার পর ব্রিটেনে থাকা তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। মি: রহমান দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আওয়ামী লীগ সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।