• বুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬


প্রকাশিত: ৫:৫৬ পিএম, ৪ নভেম্বর ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮ বার

 

মার্কিন  নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের একক ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব হলো। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকলেও, এখন থেকে তাকে ডেমোক্র্যাটদের মুখাপেক্ষী হতে হবে

 

 কূটনৈতিক রিপোর্টার : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করা এবং আগ্রাসী নীতি গ্রহণকারী এই যুদ্ধবাজ নেতার গালে ব্যালটের মাধ্যমে এক তীব্র চপেটাঘাত করেছেন মার্কিন ভোটাররা। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ (সেনেট) এবং নিম্নকক্ষ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ )—উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনকে চরম কোণঠাসা করে ফেলেছে।

ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লব ও ফলাফলের চিত্র

প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ২৪০টিরও বেশি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষ সেনেটেও ৫৩টি আসন নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে ডেমোক্র্যাটরা। আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস এবং মেইনের মতো কট্টর রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ট্রাম্পের প্রার্থীরা মুখ থুবড়ে পড়েছেন।

ভরাডুবির নেপথ্যে: যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছিল—আমেরিকার সাধারণ জনগণ এই ভোটের মাধ্যমে তারই জবাব দিয়েছে। আগ্রাসী যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং বেপরোয়া শুল্ক নীতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, ভোটাররা ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন।

কোণঠাসা ট্রাম্প প্রশাসন:

এই ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের একক ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব হলো। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকলেও, এখন থেকে তাকে ডেমোক্র্যাটদের মুখাপেক্ষী হতে হবে। ফলে তার নিম্নলিখিত নীতিগুলো সরাসরি বাধার মুখে পড়বে:
• শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি: চীনসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ঢালাও নতুন শুল্ক আরোপের আগ্রাসী বাণিজ্যিক পরিকল্পনা কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে।
• কর ছাড় নীতি: বড় বড় কোম্পানি এবং ধনীদের বাড়তি কর ছাড় দেওয়ার বাজেট পরিকল্পনা ডেমোক্র্যাটরা সরাসরি আটকে দেবে।

• অভিবাসন ও সীমান্ত দেয়াল: মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং গণ-বিতাড়ন কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ফান্ডের অনুমোদন হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস পুরোপুরি বাতিল করে দিতে পারে।
• বিচারক ও কর্মকর্তা নিয়োগ: সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প এখন আর তার পছন্দমতো কট্টর ডানপন্থী কোনো বিচারক বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে পারবেন না।

 সীমাবদ্ধ হলো নতুন করে ইরানে হামলা-

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ট্রাম্প এখনও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। ফলে জরুরি নিরাপত্তা বা আত্মরক্ষার স্বার্থে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই তাৎক্ষণিক সীমিত সামরিক হামলার আইনি সুযোগ তার রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে, আপাতত ইরানে নতুন করে বড় কোনো সামরিক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ তার ওপর ক্ষুব্ধ, তাই তিনি সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পথ বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

মার্কিন জনগণের এই রায়কে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ নীতির পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান এই ফলাফলকে আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে বলে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদযাপন দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ে ট্রাম্পের হাত-পা অনেকটাই বেঁধে ফেলা সম্ভব হবে এবং তার আগ্রাসী নীতিগুলো এখন মার্কিন কংগ্রেসেই মুখ থুবড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাইনিজ সোশ্যাল মিডিয়ার নাম ও উদ্ধৃতির অংশগুলো পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিউজটি সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি কি আপনার ফেসবুক, ব্লগ বা কোনো নিউজ পোর্টালের জন্য চূড়ান্ত হিসেবে ব্যবহার করবেন, নাকি ভেতরের কোনো তথ্যে আরও পরিবর্তন আনতে হবে?