• বৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬

বদলে যাচ্ছে বাগেরহাট


প্রকাশিত: ৯:৪২ পিএম, ৫ নভেম্বর ২৬ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১ বার

 

মোংলা বন্দরের মেগা আধুনিকায়ন ও নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
 বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নের এক নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। আজ ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে স্বশরীরে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো বিশাল এক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সকালে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানে আয়োজিত একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমে বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং একটি মেগা অবকাঠামোগত বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সিআরসিসির মূল চেয়ারম্যান দাই হেগেন। চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই বোতাম টিপে ও ফলক উন্মোচন করে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের মেগা প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় আগত উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদল, ব্যবসায়ী নেতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
উন্নয়ন প্রকল্পের আকার ও কাজের বিবরণ
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এই বিশাল আধুনিকায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যার জন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের অর্থায়নে চীন সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক সহজ শর্তে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২.৪০৪ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান ঋণ দিচ্ছে। এই ঋণের সুদের হার বার্ষিক মাত্র ২ শতাংশ এবং গ্রেস পিরিয়ডসহ এটি পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ২০ বছর সময় পাবে। আগামী ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মেগা এই প্রকল্পের প্রধান কাজের অংশ হিসেবে পশুর নদীর তীরে ২০,০০০ ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। একই সাথে বন্দরে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার আয়তনের বিশাল কনটেইনার ইয়ার্ড, একটি আধুনিক কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড তৈরি করা হবে। বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার জন্য একটি ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষও স্থাপন করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়।
বাংলাদেশ চীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল
বন্দরের মূল অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের একদম সংলগ্ন এলাকায় ১১০ একর জমির ওপর একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিকতাও আজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই বিশেষ জমিটি একসময় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেখানে কাজ শুরু না হওয়ায় কৌশলগত কারণে এই জমিতে এখনচীনের বড় বড় প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস জায়ান্টদের বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বাংলাদেশ-চীন মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন, আধুনিক উচ্চ-প্রযুক্তির গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং ভারী লজিস্টিকস পার্ক গড়ে তুলবে।
আঞ্চলিক অর্থনীতি ও যোগাযোগের সুদূরপ্রসারী প্রভাব
এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন বাগেরহাট ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক হাবে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছে। জলপথের সাথে সড়ক ও রেলপথের সমন্বিত উন্নত সংযোগ তৈরি হওয়ার কারণে দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের লজিস্টিকস খরচ ও সময় অনেক কমে আসবে। এছাড়া মোংলা বন্দর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক সুফল ছড়িয়ে দিতে এই রুটে দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় অঞ্চলে শিল্পায়নের এক বিশাল জোয়ার আসবে এবং স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।