একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর ৮০ কোটি টাকা লুটেরা বৃষ্টি-মেসবাহকে ধরুন
চেকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, সম্পদ ক্রয় ও
বিদেশে পাচারের অভিযোগ; দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
বিশেষ প্রতিনিধি : তার নাম রাজিয়া রহমান বৃষ্টি। তার স্বামী মোঃ মেজবাহ। এদের চিনে রাখুন। রাজধানীসহ যেখানেই এদের দেখা পাবেন সোজা পুলিশে একটু ফোন দিবেন দয়া করে। এরা ভয়ংকর লুটেরা। এরা রাজধানীতে একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ কোটি টাকা লুট করে আত্মগোপন করেছে বলে ওই শিল্পগোষ্ঠী দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় ওই শিল্প গোষ্ঠীর সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পুলিশ ও গোয়েন্দারা তাদের হন্য হয়ে খুঁজছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-০৫ এ দায়েরকৃত সি.আর. মামলা নং ১৭২/২০২৬ (ধারা: দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৬, ৪০৮, ৪২০, ৫০৬, ১০৯ ও ৩৪) প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ বিজনেস অফিসার রাজিয়া রহমান বৃষ্টিকে। এছাড়া তার স্বামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং সহযোগী মোঃ শওকত আলীর নামও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা প্রতারণার আশ্রয় নেন। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঋণ সমন্বয়ের অজুহাতে একাধিক তারিখবিহীন চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চেকগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ স্থানান্তর করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অর্থের একটি অংশ রাজধানীর গুলশান এলাকায় একাধিক স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ বিদেশে পাচারের চেষ্টার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের অংশ এবং এর সঙ্গে আরও ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া ও তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



