• শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউনূসের উপর ময়দা হামলা ‘ভুয়া খবর’


প্রকাশিত: ৬:১২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২৬ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১ বার

 

 ইউনূসের ইউনূসের ইউনূসেররাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও জলঘোলা করতে ফ্রান্সের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে ড. ইউনূসের নামে চালিয়ে দেয়া হয়,
ফ্যাক্টচেক: প্যারিসের সাজানো ভিডিওকে নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের ওপর ‘ময়দা হামলা’ দাবি করে মিথ্যা অপপ্রচার

অনুসন্ধানী ডেস্ক: সম্প্রতি ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস—যিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা—যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার শরীরে ময়দা ছুড়ে মেরেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা এবং গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সেলের গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, পরিকল্পিত এবং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ।
১. ভিডিওর আসল উৎস: ফ্রান্সের প্যারিসের ঘটনা
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ভিডিওটি নিউইয়র্কের নয় এবং এতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নেই।
  • প্রকৃত ভুক্তভোগী: ভিডিওতে যাকে লক্ষ্য করে ময়দা ছোড়া হচ্ছে, তিনি হলেন রাফায়েল গ্লুকসম্যান (Raphaël Glucksmann), যিনি ফ্রান্সের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য।
  • আসল ঘটনা: ঘটনাটি ঘটেছিল ১১ অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যায় ফ্রান্সের প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসমঁ এলাকায়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সোশ্যাল-ডেমোক্রেটিক বামপন্থীদের একটি প্রাথমিক বাছাইপর্বে (প্রাইমারি) জয়ী হওয়ার পর গ্লুকসম্যান ‘লা কঁতিন দ্য বেলভিল’ নামক একটি বারের বাইরে উদযাপন করছিলেন। তিনি যখন একটি ট্যাক্সিতে উঠছিলেন, তখন স্থানীয় একজন অজ্ঞাতপরিচয় আন্দোলনকারী পেছন থেকে এসে তার মাথায় এক প্যাকেট ময়দা ঢেলে দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম France 24 এবং ফরাসি মিডিয়া ‘M6 Info’ এই ঘটনার আসল ভিডিওসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
২. যেভাবে এই অপপ্রচারটি তৈরি করা হলো
মাঠপর্যায়ের একটি বাস্তব ঘটনাকে পুঁজি করে এই গুজবটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান。 সে সময় সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী দূর থেকে তাকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক স্লোগান দেয় এবং মৌখিকভাবে হেনস্তা করে。
ডিজিটাল অপপ্রচারকারীরা এই সুযোগটি লুফে নেয়। তারা বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের দূর থেকে নেওয়া একটি ঝাপসা ছবির সাথে প্যারিসে ফরাসি নেতার ওপর হওয়া ময়দা হামলার স্পষ্ট ও হাই-ডেফিনিশন ভিডিওটি জুড়ে দেয়। এরপর বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন বসিয়ে প্রচার করতে থাকে যে, নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার ওপর শারীরিক “ময়দা হামলা” চালানো হয়েছে।
৩. সরকারের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা
শারীরিক হামলার দাবিটি মিথ্যা হলেও, জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে মৌখিকভাবে হেনস্তা ও স্লোগান দেওয়ার প্রকৃত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
  • কূটনৈতিক তৎপরতা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
  • অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি: সরকারের সাইবার সিকিউরিটি উইং এবং পিআইবি-এর ফ্যাক্ট-চেক টিম সাধারণ মানুষকে এই ধরনের এডিটেড ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট ছড়ানো হচ্ছে।
উপসংহার:
নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর কোনো ধরনের “ময়দা নিক্ষেপ” বা শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও জলঘোলা করতে ফ্রান্সের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে ড. ইউনূসের নামে চালিয়ে দিয়ে এই নোংরা প্রোপাগান্ডা তৈরি করা হয়েছে।