• শনিবার , ৭ নভেম্বর ২০২৬

দেশে আবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর সার্বভৌমত্ব রেলি


প্রকাশিত: ৮:৪৯ পিএম, ৭ নভেম্বর ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০ বার

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরে ইংরেজিতে তাঁর সেই বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক স্লোগানটি উচ্চারণ করেন:
“Not Delhi, not Pindi, nor any other country. Bangladesh comes first, Bangladesh for all.”
 বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত সার্বভৌমত্ব র‍্যালির সমাপনী সমাবেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় অবস্থান নিয়ে এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ৭ নভেম্বরের মত এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন মানিক মিয়া এভিনিউতে।
 এর আগে শনিবার নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ নেতাকর্মীদের সাথে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বিশাল চত্বরে এসে পৌঁছান তিনি। সেখানে উপস্থিত লাখো জনতার এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর চূড়ান্ত সমাপনী বক্তব্য পেশ করেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা ও মূল স্লোগান
তারেক রহমানের পুরো বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষা। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত উদ্দীপনাপূর্ণ ও দৃঢ় কণ্ঠে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা দেন, যা সমাবেশস্থলেই সমবেত জনতার মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক স্লোগানে রূপ নেয়। তাঁর এই বার্তার মূল কথা ছিল যে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট আঞ্চলিক শক্তি বা প্রতিবেশী দেশের আজ্ঞাবহ নয়। দেশের সীমানা নির্ধারণে দিল্লি বা পিন্ডির মতো কোনো বিদেশি রাজধানীর প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রতিটি নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং এই দেশ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। বক্তব্যের শেষপ্রান্তে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরে ইংরেজিতে তাঁর সেই বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক স্লোগানটি উচ্চারণ করেন:
“Not Delhi, not Pindi, nor any other country. Bangladesh comes first, Bangladesh for all.”
বক্তব্যের ধরণ ও পরিবেশ
দীর্ঘ ২১ বছর পর রাজপথের কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি সশরীরে অংশ নিয়ে তারেক রহমান এই সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। উন্মুক্ত চত্বরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত জোরালো ও দৃঢ় কণ্ঠে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য গোটা সংসদ ভবন এলাকায় এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে তাঁর দেওয়া আন্তর্জাতিক বার্তা সংবলিত ইংরেজি স্লোগানটি সমবেত লাখো জনতা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে লুফে নেয়।
সমাবেশে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি
এই ঐতিহাসিক যৌথ শোভাযাত্রা ও সমাপনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একঝাঁক জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ দল ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই ঐতিহাসিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের আহ্বান
সমাবেশে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখতে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাহ্যিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের মুখে একমাত্র জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই দেশকে রক্ষা করতে পারে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করার তাগিদ দেন তিনি।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পটপরিবর্তন-পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উঠে আসে। একটি বিশেষ মহল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করা হয়। অতীতে যেভাবে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী ব্যবস্থা এবং ডামি নির্বাচনের অপচেষ্টাকে রুখে দিয়েছে, ঠিক একইভাবে যেকোনো নতুন চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ঐতিহাসিক বিপ্লবের ধারাবাহিকতা
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়—১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে একই সুতোয় গাঁথা হয়। উল্লেখ করা হয় যে, এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা কোনো অপশক্তির দাসত্ব মেনে নেবে না। এই ধারাবাহিক লড়াইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।