• শনিবার , ৭ নভেম্বর ২০২৬

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ছাত্রীদের বিক্ষোভ


প্রকাশিত: ৮:৪০ পিএম, ৬ নভেম্বর ২৬ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮ বার

শুক্রবারের সড়ক অবরোধ ও আল্টিমেটাম
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের নীলক্ষেত ও আজিমপুর সড়কের দুপাশ অবরোধ করে অবস্থান নেন।
স্টাফ  রিপোর্টার :  রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসার পদত্যাগ এবং পুলিশি হামলার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত :
পূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে পাঁচটি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের একটি বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে তা মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অডিটোরিয়াম ব্যবহারের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা অনুষ্ঠানটির সমন্বয়কারী দুইজন আবাসিক শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে সিট ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২,৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন।
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধকরণ ও মধ্যরাতের নাটকীয়তা
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপালের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং তাকে কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দিনভর অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ১১টার দিকে প্রিন্সিপাল অসুস্থ হয়ে পড়লে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রবেশ ও গভীর রাতের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে ও ছাত্রী হলের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে, যাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত ও হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করে বলা হয়েছে, শুধু নারী পুলিশ সদস্যরা গিয়ে বুঝিয়ে প্রিন্সিপালকে উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
শুক্রবারের সড়ক অবরোধ ও আল্টিমেটাম
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের নীলক্ষেত ও আজিমপুর সড়কের দুপাশ অবরোধ করে অবস্থান নেন। এতে ওই এলাকায় সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি সরকারি চাকরি নিয়োগ পরীক্ষা চলায় পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তারা প্রথমে কিছুক্ষণ ছাড় দিলেও পরে মূল সড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টার পর তারা সড়ক ছেড়ে কলেজের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো:
    • অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসাকে অবিলম্বে পদত্যাগ বা অপসারণ করতে হবে এবং তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
    • বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
    • অধ্যক্ষের লিখিত পদত্যাগপত্র না আসা পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন ও লাগাতার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।