• রোববার , ৮ নভেম্বর ২০২৬

  ‘হিট এন্ড রান’ আ’লীগের  নাশকতায় আতঙ্কিত নগরবাসি


প্রকাশিত: ৮:৩৮ পিএম, ৮ নভেম্বর ২৬ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫০ বার

মোটরসাইকেলে দ্রুত এসে ককটেল ছুড়ে মুহূর্তের মধ্যে গলিপথ কিংবা ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উধাও হয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

বিশেষ প্রতিনিধি:  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ ঘিরে ককটেল বিস্ফোরণ জ্বালাপোড়াওয়ে জননিরাপত্তা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নভেম্বরের শুরু থেকেই আচমকা ককটেল বিস্ফোরণ এবং গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগে কেঁপে উঠছে রাজধানী ঢাকা। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক হামলার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। সেটি হচ্ছে ১৩ নভেম্বর ঢাকার লকডাউন ঘোষণা কে কেন্দ্র করে।

 

মিশন ‘হিট অ্যান্ড রান’ প্লান

হটস্পট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, সিনেট ভবন, নীলক্ষেত মোড়, মহাখালী সেতু ভবন, উত্তরা-বিমানবন্দর সড়ক, মিরপুর ও খিলগাঁও।

কৌশলগত সময়: হামলাগুলোর জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে গভীর রাতের মধ্যবর্তী সময়কে।

পলায়ন রুট: মোটরসাইকেলে দ্রুত এসে ককটেল ছুড়ে মুহূর্তের মধ্যে গলিপথ কিংবা ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উধাও হয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

নেপথ্যে ১৩ নভেম্বরের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

মাঠ গরমের আগাম প্রস্তুতি: ১৩ নভেম্বর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ডাকা “ঢাকা লকডাউন” কর্মসূচীর আগে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য।

ব্যর্থতা প্রমাণের চেষ্টা: ঢাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল ও ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরার একটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কাজ করছে।

অ্যাকশন মোডে পুলিশ

ঝটিকা অভিযান: ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা রুখতে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

হাতেনাতে ধৃত: ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে বিস্ফোরকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 অনুসন্ধানে মিলেছে–

গোপন আস্তানা: ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত গানপাউডার মূলত ঢাকার বাইরের অননুমোদিত কারিগর ও গোপন রুট দিয়ে রাজধানীতে ঢুকছে।

জ্বালানি নজরদারি: বাসে আগুন দেওয়ার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ ঠেকাতে ফিলিং স্টেশনগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ ও খুচরা জ্বালানি বিক্রির রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  পুলিশ নাই প্রতিরোধে জনতা–

টিএসসিতে ধাওয়া: টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল ফাটিয়ে পালানোর সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরে ফেলে। পরে তাদের হালকা উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করা হয।

বাংলামোটরে প্রতিরোধ: বাংলামোটর এলাকায় মোটরসাইকেলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় সাধারণ মানুষ নিজেদের গাড়ি দিয়ে পথ আটকে অপরাধীদের পাকড়াও করতে সমর্থ হয় পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয় ।

 বিশেষজ্ঞরা বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন-

প্রযুক্তির নজরদারি: কেবল রাস্তায় পুলিশ বা সিসিটিভি কামনা বাড়িয়ে এই ধরণের চোরাগোপ্তা হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে হলে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।