• শনিবার , ৮ আগস্ট ২০২৬

৩৬ জুলাই নিউটনের আপেল ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


প্রকাশিত: ৮:১৩ পিএম, ৮ আগস্ট ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৮ বার

 

 

 

রিজভী বলেন, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’-এর মতো কর্মসূচিতেও বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ছিল। জুলাই আন্দোলনে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন।সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের প্রসঙ্গও তোলেন রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ওই তথ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো উল্লেখ ছিল না।

 

বিশেষ প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয় বরং এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে ঘরে উঠেছে। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট নিউটনের কোনো সূত্র বা  নিউটনের কোনো আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল হিসেবে জাতি একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে। এই আন্দোলন, এই গণঅভ্যুত্থানকে আমাদের পেরে নিতে হয়েছে।’

শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন রাজনীতির কথা বলা হলেও কেউ কেউ পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাতেই রাজনীতি করছেন। তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও শিখতে হবে। রাজনীতির মাঠ সহজ নয়; এটি কঠিন, বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ পথ।

তিনি বলেন, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যে যদি ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কোনো ভূমিকা নেই বলে মনে করা হয়, সেটি রাজনৈতিক অপরিপক্বতার পরিচয়। নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর চলবে না, একইভাবে ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতিও’ আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকেই বিভিন্নভাবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ প্রকাশ্যে মাঠে ছিলেন, কেউ ছিলেন আড়ালে। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে বিতর্ক ও রাজনীতির মাঠে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না, যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেউ ছিনিয়ে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, একাত্তরের চেতনার নামে রাজনীতি করতে করতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিণতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় এবং দাফন দিল্লিতে হয়েছে এমন একটি রাজনৈতিক প্রবাদও তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও উসকানিতে পা না দিতে বিএনপির বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সহিংসতা উসকে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কয়েকটি জায়গায় সেই চক্রান্তে ‘বন্ধু ছাত্ররা’ পা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গালি বা অপপ্রচারের জবাব গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের মাধ্যমে দিতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সহিংসতায় জড়ানো যাবে না।’

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অংশ না নেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এমনভাবে সংবিধান সংস্কার করবে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে দীর্ঘ মেয়াদে কাজে আসবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের সময় লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান এবং দলের তৎকালীন শীর্ষ নেতারা নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’-এর মতো কর্মসূচিতেও বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ছিল। জুলাই আন্দোলনে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের প্রসঙ্গও তোলেন রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ওই তথ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো উল্লেখ ছিল না।

রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ৫ আগস্টের পর বিরোধী দল যেভাবে সবাইকে ক্ষমা ও নরম সুরে কথা বলেছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারই কোনো ‘এক্সটেনশন’ কি না? বিষয়টি ‘তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করা হতো’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ ছিল। মুক্তবুদ্ধির চর্চায় বাধা দেওয়া হতো এবং সাধারণ শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হতো।

প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের ওপর মানসিক ও প্রশাসনিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও দাবি করেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন, অধিকার আদায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক সংকটে শিক্ষকেরা ক্লাসরুমের বাইরে এসে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম।জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিতে গিয়ে কেউ যেন এটিকে ‘বাবার সম্পত্তির মতো’ ব্যবহার না করেন। যে বৈষম্য নিরসনের জন্য তরুণ শিক্ষার্থীরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের ত্যাগ যাতে বৃথা না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।