• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আইএস টুপি’র উৎস আদালতের হাজতখানা!


প্রকাশিত: ৬:৩৭ পিএম, ২৭ নভেম্বর ১৯ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৫৪ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : আইএস টুপি’র উৎস কি আদালতের হাজতখানা! কারণ আদালতের প্রায় সবাই বলেছেন, আদালত চত্বরেই জঙ্গিদের মাথায় আইএস লেখা টুপি দেখা গেছে। এক্ষেত্রে আদালতের অনেকের সন্দেহ ‘আদালতের হাজতখানা’র দিকে। কারণ, আদালতে কোনো আসামী আনা হলে তাকে প্রথমে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানায় পুলিশ কে ম্যানেজ করে আসামীরা বিশেষ বিনিময়ে নাস্তা থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং স্ত্রীর সঙ্গেও আয়েসে কথা বলতে পারেন।

এ কারণে হাজতখানা সংশ্লিষ্ঠদের যোগসাজশ জোরালো। গোয়েন্দা সূত্রের মতে কারাগার থেকে আদালতে আনার সময় জঙ্গিদের কাছে আইএস লেখা টুপি ছিলনা। কিন্তু আদালতের আনার পর তাদের মাথায় আইএস টুপি দেখা যায়। এক্ষেত্রে সন্দেহের তীর আদালতের হাজতখানার দিকে? কারণ, আদালতের হাজতখানার পুলিশকে ম্যানেজ করে ইতিপূর্বেও দাগি আসামীদের সুবিধা নিতে দেখা গেছে।

যাহোক হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গির কারও মধ্যে কোনো ভয়, অনুতাপ বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। উল্টো তারা আদালত কক্ষ থেকে বের করার সময় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। আসামি রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের (ইসলামিক স্টেট) পতাকার প্রতীক সংবলিত টুপি পরে ছিলেন। এরপর আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার পর আরও এক জঙ্গিকেও কালো কাপড়ে তৈরি একই রকম টুপি পরতে দেখা যায়। ওই জঙ্গির নাম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আদালতে আনার সময় কারও মাথায় এমন টুপি ছিল না। বের হওয়ার সময় রাকিবুলের মাথায় এই টুপি দেখা যায়। কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনা এসব জঙ্গিরা আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি কোথায় পেলেন তা নিয়ে সবার মধ্যে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়। এরা কারাগার থেকে এ টুপি নিয়ে এসেছেন নাকি আদালতে আনার সময় বা আনার পর তাদের কাছে এই টুপি এসেছে এ নিয়েও আদালত চত্বরে আলোচনা চলছিল।

এ সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, এটি আমরা দেখেছি ছবিও দেখেছি। আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারাগার থেকে আনার সময় আসামিদের তল্লাশি করে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে কি আছে তা দেখা হয়। এ ধরনের টুপি তাদের কাছে কীভাবে গেল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

ওদিকে আজ দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও এনিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জেনেছি, এটি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। আমি এখনই তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। দেকা গেছে, রায় ঘোষণার পর আইএসের প্রতীক সম্বলিত টুপি পরে আদালত কক্ষ থেকে বের হন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জঙ্গি রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম। কয়েক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির এসব জঙ্গিদের আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তাঁরা প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে চিৎকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে বলতে থাকেন। একই সঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন।

২০১৬ সালে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।বিচার শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় আজ বুধবার বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম, রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আসলাম হোসেন ওরফে র‍্যাশ, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মোহাম্মদ হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে সাগর, মামুনুর রশিদ রিপন, শরিফুল ইসলাম খালেদ। আর খালাস পেয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই হামলা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। গত এক বছরে রাষ্ট্রপক্ষ এই হামলা মামলায় ১১৩ জন সাক্ষী হাজির করেছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজন, হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে আহত পুলিশ, হোলি আর্টিজান বেকারির মালিক ও কর্মী, জিম্মি হয়ে পড়া অতিথি এবং যেসব বাড়িতে আস্তানা গেড়ে নৃশংস এই হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, সেসব বাড়ির মালিকেরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় জঙ্গিরা হত্যা করেছিলেন ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাঁদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি।পুলিশের তদন্তে এসেছে, এই হামলায় জড়িত গোষ্ঠীর নাম নব্য জেএমবি, যারা ঘটনার পর নিজেদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট) বলে দাবি করেছিল।