• শনিবার , ১ আগস্ট ২০২৬

রিহ্যাবে আফজাল-রাজ্জাক চক্রের লুটপাট তদন্তে মন্ত্রণালয়


প্রকাশিত: ১২:০৬ এএম, ১ আগস্ট ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৬ বার

 

 

রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা ছাড় করা হয়নি? তাহলে কত কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়া হয়েছে এবং তা কিভাবে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে চলছে রহস্য। রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ধার করে কি দান খয়রাত করা যায়,

 

 

লাবণ্য চৌধুরী : আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবে আফজাল-রাজ্জাক চক্রের লুটপাটের অভিযোগে তোলপাড় চলছে। ভুক্তভোগীরা দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এবং সিনিয়র সহ সভাপতির সিন্ডিকেট মাত্র ৩ মাসে ৫০ লাখ টাকা খেয়ে ফেলেছে অবৈধভাবে। এনিয়ে পরিচালনা পর্ষদের দানা বেঁধেছে তুমুল দ্বন্দ্ব। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আফজাল-রাজ্জাক এক পরিচালককে হেয় করেছেন। ঘটনাটি গড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। সেখানে অভিযোগ দেয়ার পর আটকে গেছে এজিএমসহ রিহ্যাবের নানা কার্যক্রম।

ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মোট ১৪ কোটি টাকার চেক দেওয়া নিয়ে চলছে চরম অসন্তোষ। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকা কয়েকটি আবাসন কোম্পানি দেয় বলে দাবি করেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। বাকি ২ কোটি টাকা রিহ্যাব তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা ছাড় করা হয়নি? তাহলে কত কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়া হয়েছে এবং তা কিভাবে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে চলছে রহস্য। রিহ্যাবের সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ধার করে কি দান খয়রাত করা যায়, বিষয়টি আসলে প্রতারণার পর্যায়ে পড়ল কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে কিংবা খতিয়ে দেখতে হবে।

এদিকে পরিচালক পর্ষদের দুই পক্ষের ‘গোলমালের’ মধ্যে এক মাসের জন্য আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রিহ্যাবের এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে সংগঠনের পরিচালক পর্ষদের দুই পক্ষের অভিযোগ নিয়ে শুনানি শেষে এজিএম স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে। শুনানিতে সংগঠনের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সহ সভাপতি (অর্থ)-সহ এক অংশের বিরুদ্ধে পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে দুই কোটি টাকার চেক সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার অভিযোগ আনেন রিহ্যাবের সহসভাপতি (১) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে পর্ষদের ১০ পরিচালক।

এছাড়া গত তিন মাসে আফজাল রাজ্জাক চক্রের খেয়ে ফেলা ৫০ লাখ টাকার ভাউচার পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেনি। ওদিকে আফজাল-রাজ্জাক চক্রের লুটপাটের ১২টি বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের তদন্ত চলছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এজিএম স্থগিত করে সংগঠনটিকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে আক্তার হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর শুনানি ও তথ্য বিশ্লেষণ করতে আরো সময় লাগবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এজিএম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিস্পত্তি ও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর শুক্রবার সদস্যদের চিঠি দিয়ে এজিএম স্থগিত করার বিষয়টি অবহিত করেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। সেই চিঠিতে এজিএমের তারিখ ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে দুই কোটি টাকার চেক সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে শুক্রবার একটি সংবাদ সংস্থাকে কে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “রিহ্যাবের তহবিলে ২ কোটি টাকা ছিল না। এর মধ্যে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয় চেকের মাধ্যমে। গত ২১ জুলাই স্বল্প সময়ের নোটিসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব নেতারা সভা করার ডাক পান। সেখানে আমিও উপস্থিত থাকতে পারিনি।

তিনি দাবি করেন, বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানানো হয় সকাল ১০টার পর। এই সময়ের মধ্যে রিহ্যাব নেতাদের অনেকেই গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স পাননি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে। তাই হয়ত কয়েকজন অভিমান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা শেষে ত্রাণ তহবিলে মোট ১৪ কোটি টাকার চেক দেওয়া হয় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকা কয়েকটি আবাসন কোম্পানি দেয় ও রিহ্যাব তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে পুরো অর্থ চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি দাবি করে বলেন, সময় স্বল্প হওয়ার কারণে পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব অর্থের হিসাব আছে, ডকুমেন্ট আছে। আমরা পোস্ট ফ্যাক্টো হিসেবে পরের পরিচালক পর্ষদে অনুমোদন করিয়ে নেব বলেও জানান তিনি।

ওদিকে আবাসন খাতের এই সংগঠনের উদ্যোগে আগামী ১২ অগাস্ট থেকে চার দিনের মেলার হবার কথা রয়েছে ঢাকার শাহবাগের কাছে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। মেলায় আবাসন প্রতিষ্ঠান, নির্মাণসামগ্রী খাতের প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু পরিচালক পর্ষদের ‘হট্টগোল’ এ মেলা হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সহসভাপতি (১) আক্তার হোসেন জানান, মেলা হবে কি হবে না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এসব সম্পর্কে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আফজাল এবং সিনিয়র সহ সভাপতি রাজ্জাকের সঙ্গে হোয়াটসএ্যাপ এবং ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো ফোন ধরেননি। এমনকি ‘ম্যাসেজ’ দেয়া হলেও কোনো সাড়া দেননি। তবে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ফোন না ধরে উল্টো ‘মিস কল’ দেন। কিন্তু ফোন ব্যাক হলেও তিনি সাড়া দেননি।