• রোববার , ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে জ্বালানি বাজারে আসছে বেসরকারি খাত


প্রকাশিত: ৫:৪১ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২৬ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯ বার

 

বিপিসির বিকল্প তৈরি: বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ, জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন, বিইআরসির হাতে দাম নির্ধারণের দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকারি নীতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) একচ্ছত্রভাবে তেল আমদানি, বণ্টন ও খুচরা বিক্রির কাজ করে আসছে। এই একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ব্যবসার সুযোগ দিয়ে একটি নতুন নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব বিপিসিকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি মজুত করার সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং বেসরকারি খাতের বিদ্যমান অবকাঠামো ও বিনিয়োগের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। এর সিংহভাগই বিপিসি নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি উৎপাদন করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রির অনুমতি নেই—উৎপাদিত তেল বিপিসির কাছেই বিক্রি করতে হয়। শুধুমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজস্ব ফার্নেস ওয়েল আমদানি করতে পারে। বিপিসির এই দীর্ঘদিনের একচেটিয়া প্রভাবে তেল চুরি, অপচয় ও ভেজালের মতো অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। বেসরকারি খাত যুক্ত হলে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যেমনটি দেখা গেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে, যেখানে ৯৮ শতাংশ চাহিদাই বেসরকারি খাত পূরণ করছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও আইইউবি-র উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশগ্রহণে বাজার উদারীকরণ করা ইতিবাচক, তবে এর সুফল যেন সাধারণ ভোক্তারা পান, সেজন্য কঠোর সরকারি তদারকি প্রয়োজন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিপিসির বদলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে দেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপসহ অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি খাতে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছে।