• মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াত ডাবল অপরাধ করেছে-বিএনপি এমপি ফজলুর বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ হট্টগোল


প্রকাশিত: ৯:২৮ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২৬ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫ বার

ফজলুর রহমান বলেন, “আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে, সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা নয়

 

 

সংসদ রিপোর্টার : কিশোরগঞ্জ–৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তৈরি হয় হট্টগোল। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ফজলুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় দফায় দফায় হট্টগোল হয়।

ফজলুর রহমান বলেন, “আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করিনি? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, তাঁকে আমি অসম্মান করি না, সব সময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু তাঁর দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ফজা পাগলা বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং তিনি শহীদ পরিবারের লোক; অথচ তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছে।”

তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “বলতে দিন। আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।”এ সময় ফজলুর রহমান আবারও বলেন, “আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছে। এই যে দেখেন, তারা কী ধরনের আচরণ করছে আজকে!”

এ সময় স্পিকার বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি বলি তারপর আপনি বলেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে, লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বলি যে রুলস অব প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না। প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা এরপরে তার বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন করুন। কিন্তু এই যে আচরণ, এতে শিশুরাও লজ্জা পাবে।”

এরপর ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুর বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। মুনীর চৌধুরী, আবদুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে শুরু করে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল, তাদের বলা হয় আলবদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউসে তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে। আমি একা হলেও এর প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নিই।”

সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে, সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা নয়। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।”

এরপরই বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।