• সোমবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ক্রসফায়ার দাবি আইজিপির পদত্যাগ চাইল টিআইবি


প্রকাশিত: ৮:৪৮ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২৬ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০ বার

আইজিপি জানান, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সেখানে সরকার যদি অনুমতি দেয় তবে পুলিশ সেই পদক্ষেপ নেবে

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং অপরাধ দমনে প্রয়োজনে সরকারের কাছে ‘ক্রসফায়ার’-এর অনুমতি চেয়েছে পুলিশ বাহিনী। সরকারের তরফ থেকে সবুজ সংকেত বা অনুমোদন মিললে পুলিশ এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২৬ অক্টোবর ২০২৬ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বাহিনীর এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

কঠোর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে পুলিশের যুক্তি:

অনুমতির আবেদন: আইজিপি জানান, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সেখানে সরকার যদি অনুমতি দেয় তবে পুলিশ সেই পদক্ষেপ নেবে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে এই অনুমোদন পাওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
কাজের পরিবেশের সংকট: পুলিশ প্রধান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ চরম সংকটে পড়ে। বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ফ্যাসিস্ট বলে, আবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে আখ্যা দেয়। এই দ্বিমুখী সমালোচনা বন্ধ করে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ ও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ: সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্য পুলিশের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান। কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় না চাপিয়ে সংবিধান অনুযায়ী বাহিনীকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান ও মাদক নির্মূল:
পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত: বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে আইজিপি জানান, গত দুই মাসে বিভিন্ন অভিযোগে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মাদকের বিস্তার: পাড়া-মহেল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্বীকার করেন, মাদক কারবারের সঙ্গে পতিত রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ:
রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি: শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয় বিধায় পুলিশের দেখার বিষয় নয়। তবে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশে কেউ কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ: অতি সম্প্রতি এক অতিরিক্ত ডিআইজির বাসা থেকে ৮৫ জনকে গ্রেফতারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং পুলিশের সরকারি আবাসনের ভেতরে গোপনে মদ খাওয়া, মাতাল হওয়া বা মাদক সেবন করাকে সাংবিধানিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

টিআইবি (TIB)-এর তীব্র নিন্দা ও পদত্যাগের দাবি:
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্রসফায়ারের এই প্রকাশ্য সবুজ সংকেত চাওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)। টিআইবি এক বিবৃতিতে বলেছে, আইজিপির এই বক্তব্য দেশের সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অপরাধ দমনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এই বিপজ্জনক বার্তার জন্য টিআইবি আইজিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই বক্তব্যের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছে সংস্থাটি।