ফখরুল না অলি-পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে!
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কাউকে ভোট দিতে পারবেন না বিএনপির এমপিরা। আর সে কারণে বিএনপি জাতীয় সংসদে মেজরিটি থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই বহাল থাকছে
শফিক রহমান : বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাকি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। কে হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে যত আলোচনাই হোক বিএনপির পক্ষেই পাল্লা ভারি! কারণ, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কাউকে ভোট দিতে পারবেন না বিএনপির এমপিরা। আর সে কারণে বিএনপি জাতীয় সংসদে মেজরিটি থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই বহাল থাকছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী দেশের রাষ্ট্রপতি । বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির ঠাকুরগাঁও সংশ্লিষ্ঠ এক জ্যেষ্ঠ নেতা। বিএনপির ওই নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিনের মহাসচিবকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দল মনোনীত করেছেন।
ওদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। রোববার (৯ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আজ রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফরম একজনের জন্য নিয়েছি, কিন্তু কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি যেন না হয় এ জন্য দুইটা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। তবে কারও নামে সেটি সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আমরা মনোনয়ন জমা দেব।’ চিফ হুইপ জানান, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেবে বিএনপি।
২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিনের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর একটি বৈধ ঘোষণা করা হলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। একজন প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
এর আগে, গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর আগামী ২০ আগস্ট ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়।তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার জোটটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ১৯৯১ সালের পর এটিই হবে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ওই বছরের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না।
সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এক দিনের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করবেন। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে নির্ধারিত ভোটের সাত দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠক আহ্বান করবেন। তবে এই বৈঠককে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন হিসেবে গণ্য করা হবে না।
ওদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।রোববার (৯ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছিল, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, এসব বিষয় নিয়েও সংসদে প্রস্তাব এসেছিল।’
‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন শেষে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে, এমনটাই আমরা আশা করেছিলাম,’ যোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। যারা জুলাই-পরবর্তী সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন তাদের নিয়ে কার্যকরভাবে অধিবেশনও ডাকেনি সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। অথচ গত ১৬ বছর বিএনপির যে আন্দোলন ছিল তার অন্যতম দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দিতে হবে। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতিকে আরও ছয় মাস রেখে দেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাকে এখন কোনো ধরনের প্রি-এক্সিট (আগাম অব্যাহতি) দেওয়া হয়েছে কি না, বিচার বা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি না, এ নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এ ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা বা পাঁয়তারা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর যে সময় অতিক্রম হবে সেই সময়ে এই (নতুন) রাষ্ট্রপতি থাকবেন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, রাষ্ট্রপতি নিজে কী ভূমিকা পালন করবেন- এসব বিষয় জাতির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।’




