• সোমবার , ১৬ মার্চ ২০২৬

১১ বছর পর পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা


প্রকাশিত: ২:১৫ এএম, ১৬ মার্চ ২৬ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৭ বার

২০১৫ সালে শেষবার পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর আবারও ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারানোর আনন্দে ভাসল টাইগাররা। তৃতীয় ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জবাবে পাকিস্তানের হয়ে সালমান আগা শতক পেলেও শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার : দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা।বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার বোলিং তোপে পড়ে পাকিস্তান। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রোববার (১৫ মার্চ) সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিকরা।এর আগে ২০১৫ সালেও ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

মিরপুরে ছিল উত্তেজনা, ছিল দোলাচল, ছিল আশঙ্কাও! কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসিটা লাল-সবুজেরই। অবশেষে শেষ হলো দীর্ঘ অপেক্ষা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১১ বছর। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নাটকীয় লড়াই শেষে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।শেষ ওভারে এসে রুদ্ধশ্বাস ছড়ানো সেই জয়ের মধ্য দিয়েই তিন ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

২০১৫ সালে শেষবার পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর আবারও ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারানোর আনন্দে ভাসল টাইগাররা। তৃতীয় ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জবাবে পাকিস্তানের হয়ে সালমান আগা শতক পেলেও শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে বাংলাদেশের ঘরেই।

মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাট করে শক্ত ভিত গড়ে দেয় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের অসাধারণ শতকে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে নেমে ৫০ ওভারে অলআউট হয়ে পাকিস্তান তুলে ২৭৯ রান।

বড় এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাদের বোলিং তোপে মাত্র ২.৫ ওভারে ১৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি খুব সহজেই জিতে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে দ্রুত উইকেট হারানোর পর ধৈর্য নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন সালমান আগা ও আব্দুল সামাদ। দুজন মিলে চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সামাদ ৩৪ রান করে ফিরে গেলেও একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন সালমান। পরে শাদ মাসুদ কিছুটা সময় তাকে সঙ্গ দেন এবং ৪৪ বলে ৩৮ রান করেন। এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও নিজের ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন সালমান আগা, যা বাংলাদেশের শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে মিরাজদের। তবে শেষ পর্যন্ত সালমান আগা শতক পেলেও জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাকে তাসকিন দেখিয়ে দেন সাজঘরের পথ। ৯৮ বলে তিনি করেন ১০৬ রান। তারপরই স্বস্তি, সিরিজের শেষ হাসিটা হাসে স্বাগতিকরাই।

এর আগে ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। সফরকারীরা একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনে, আর বাংলাদেশ মাঠে নামে অপরিবর্তিত দল নিয়ে। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লের প্রথম দশ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এরপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তানজিদ। চার-ছক্কার ঝড় তুলে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন তিনি। এক পর্যায়ে আউট হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও ফিল্ডিং ভুলে সেটি ছক্কায় পরিণত হয়। সেই সময়ই ওয়ানডেতে নিজের ষষ্ঠ অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। তিনি ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত তানজিদের সঙ্গে জুটি গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৪ বলে ২৭ রান করে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

অন্যদিকে নিজের ছন্দ ধরে রেখে এগিয়ে যান তানজিদ। ইনিংসের ৩৩তম ওভারের শেষ বলে সালমান আলী আগাকে সোজা সাইটস্ক্রিনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করতে তাঁর লাগে ৯৮ বল। শতক পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে দর্শকদের অভিবাদন জানান এবং পিচে সিজদা দিয়ে উদযাপন করেন এই ওপেনার।

তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদ। আবরার আহমেদের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে শাহিন আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১০৭ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০৭ রান করেন এই ওপেনার।

এরপর লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটিতে ইনিংস এগিয়ে যায়। চতুর্থ উইকেটে তারা ৬১ বলে ৬৮ রান যোগ করেন। লিটন ৪১ রান করে আউট হলেও হৃদয় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন। ৪৪ বলে চারটি চার মেরে ৪৮ রান করেন তিনি।

সব মিলিয়ে তানজিদের সেঞ্চুরিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে বাংলাদেশের ২৯০ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন, আর শাহিন আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

সিরিজের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের দাপুটে জয় দিয়ে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেও শেষ ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল টাইগাররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, নাজমুল ২৭; রউফ ৩/৫২)।

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, আফ্রিদি ৩৭, সামাদ ৩৪; তাসকিন ৪/৪৯, মুস্তাফিজ ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)।

ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।