• মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনা যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেয়: ত্রিবেদীকে হুমায়ুন


প্রকাশিত: ৯:৩০ পিএম, ৩ আগস্ট ২৬ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮ বার

 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাই কমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে

কূটনৈতিক রিপোর্টার : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি।তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হওয়া এ সৌজন্য সাক্ষাতের আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে।

“এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাই কমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।“ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।”

এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে হাই কমিশনারের সাক্ষাতের খবর দিয়ে এক ফেইসবুক পোস্টে ভারতীয় হাই কমিশন বলেছে, তাদের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বাড়ানো।

হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবার কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম।

আগামী ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে ওই ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে; যে দিনটিতে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।রোববার ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়া দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এ সভার আয়োজন করেছে।

মতবিনিময় সভার আমন্ত্রণপত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ‘প্রস্তাবিত সময়সূচি’ নিয়ে আলোচনা করবেন।এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সম্প্রতি জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজকে দেওয়া পরপর দুটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন।

শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিবেদনের বিষয় সামনে আসছে। যেখানে দুদেশের সম্পর্ক এগোনোর স্বার্থে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বাইরে রাখার বিষয় উঠে আসার কথা বলা হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে।

ওই প্রতিবেদন নিয়ে এক খবরে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ভারতের ভূখণ্ড থেকে অন্য দেশকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে না দেওয়ার কঠোর নীতিতে অবিচল থাকার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে সরকারের যে অবস্থান, তা তুলেছে ধরেছে সংসদীয় কমিটি।

“সরকার কমিটিকে জানিয়েছে যে, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা কোনো সুযোগ তারা তাকে দিচ্ছে না।সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন থেকে এমন বক্তব্য এলেও দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তৃতার আয়োজক এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ওই আয়োজনের বিষয়ে ‘ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই’।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সোমবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উভয়ে নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।