• রোববার , ৩০ আগস্ট ২০২৬

ছিনতাইকারীর কবলে লাশ শিক্ষিকা


প্রকাশিত: ১১:৫৪ পিএম, ২৯ আগস্ট ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৫ বার

 

রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে দাপিয়ে বেড়ানো অপরাধিদের তান্ডব কতটা বেড়েছে তা এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতার এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নিহত হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে। ছিনতাইকারীরা ওই শিক্ষিকার ব্যাগ টান দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে নিহত হন। জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় এসেছিলেন চোখের চিকিৎসা করাতে, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে থেকে মামলা না করার কথা বলেছেন স্বজনরা।নিহত শিক্ষিকার নাম রনজিলা পারভীন। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

ঢাকায় সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা বলেন, উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা শনিবার ভোরে স্বামীর সঙ্গে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান।

সেখান থেকে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নিহত ৫৭ বছর বয়সি রনজিলা উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে বাসিন্দা। তিনি বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার জেলা খাদ্য কর্মকর্তার অফিসের পাশে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।রনজিলার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বগুড়ায় ফিরছেন লাশ নিয়ে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে থেকে কোনো মামলা করা হবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, চোখের চিকিৎসার জন্য রনজিলা পারভীন ও তার স্বামী আব্দুল মতিন বৃহস্পতিবার রাত ১২টার বাসে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ভোরে ঢাকায় পৌঁছে তারা রিকশায় করে ফার্মগেটের ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি রনজিলা পারভীনের হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি রিকশা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।জাহিদুল ইসলাম বলেন, রনজিলা স্বামী আব্দুল মতিন ব্যবসা করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে রাইশা নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। মায়ের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে রাইশার কান্না থামছে না।

তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন রনজিলা। পরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি। রনজিলা প্রতিদিন বগুড়া থেকে বাগবাড়ীতে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতেন।

‎এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা মোটরসাইকেল ও জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছি। আশা করছি খুব শিগগিরিই তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।