• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় সাড়ে ৮ লাখ ভবন ২ লাখ মানুষের মৃত্যুর শংকা রাজউকের


প্রকাশিত: ৭:৪৯ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২৫ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৪১ বার

অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মধুপুরের ফল্টটি অনেক পুরনো। প্রায় একশ বছর হয়েছে, এখানে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প হয়নি। মধুপুর ফল্টের আওতাধীন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, এর প্রভাব পড়তে পারে চারদিকে ১০০ কিলোমিটার এলাকা। 

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীতে ‘মধুপুর ফল্টে’র ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ লাখ ভবন ধসে পড়বে এবং প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছে রাজউক। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক গবেষণা মিলেছে এতথ্য। এমনটি হলে রাজধানীতে ভবনের ঝুঁকি নিরীক্ষার ক্ষমতা শুধু রাজউকের হাতে সীমাবদ্ধ না রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা। আর ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাস্ট গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত উপদেষ্টা।

শুক্রবারের ভূমিকম্পে আবারও স্পষ্ট হয়েছে ঢাকার বিপর্যয়ের শঙ্কা। ছয়েরও কম মাত্রার কম্পনে দীর্ঘক্ষণ দুলতে থাকে রাজধানীর বহু ভবন। সারাদেশে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন। আতঙ্ক ছড়ায় সব জায়গায়।সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ভূমিকম্প বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় রাজউকের গবেষণার তথ্য জানিয়ে বলা হয়, দিনের বেলা মধুপুর ফল্টে প্রায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেই ধসে পড়বে ৮ লাখ ৬৫ হাজার ভবন। প্রাণ হারাবেন দুই লাখের বেশি মানুষ। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াবে ২৫ বিলিয়ন ডলার।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মধুপুরের ফল্টটি অনেক পুরনো। প্রায় একশ বছর হয়েছে, এখানে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প হয়নি। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ছোট ছোট ভূমিকম্পের পরই বড় ধরনের ভূমিকম্পের বার্তা দেয়। যে কারণে মধুপুর ফল্টের আওতাধীন এলাকা গুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। এর প্রভাব পড়তে পারে চারদিকে ১০০ কিলোমিটার এলাকা। এর আগে ভূমিকম্প হয়ে মধুপুরে বড় ফাঁটল হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নগরায়নে যে বহুতল ভবন করা হয়, সেখানে বিল্ডিং কোড মানা হয়ই না। বহুতল ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী চারপাশে জায়গা রাখার কথা, সেগুলোও মানা হয় না। যে প্ল্যান পাশ হয়, তার চেয়ে আরও উচু ভবন তৈরি হচ্ছে। যে কোনো দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষ গুলোকে উদ্ধার করা যাবে না। কারণ তাদের উদ্ধার করতে যে জায়গা প্রয়োজন, সেই জায়গা রাখা হয়নি। রাস্তা গুলোও খুব সংকুচিত। তাই দুর্যোগ হলে মানুষ আটকা পড়ে প্রাণহানি ঘটবে, জীবননাশের শঙ্কা থাকবে।’

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন ফিল্ডটাই তো খুব ডিফিকাল্ট। রাজউকের সেই ক্যাপাসিটিই নেই। ইক্যুইপমেন্ট দিলেও এটা বাড়বে না। থার্ড পার্টিকে দিয়ে, সে যদি সার্ভে করে প্রতি তলায় তলায়, তাহলে সেটা কম্পাইল করে আমরা সেই ভবনকে সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে পারি।’ভবন নিরীক্ষায় বেসরকারি কোম্পানিকে যুক্ত করতে বিশেষ আদেশ জারি করার পরামর্শ দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পাশাপাশি পুরান ঢাকা সংস্কার আবারও শুরু করার তাগিদ দেন তিনি।

ভূমিকম্পে শিশু কীভাবে নিরাপদ থাকবে

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘বড় কিছু যে হতে পারে, এটার একটা বার্তা এসেছে। আমরা যেন প্রস্তুত থাকতে পারি, সেটার জন্য প্রত্যেকেই আমরা রাজউক এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহায়তা করি। আমি মনে করি, রাজউকের পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডার যারা আছে—ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, ডেসা, গ্যাস—তাদেরকেও সচেতন করতে হবে। যদি এ রকম হয় তাহলে গ্যাসের লাইনটা কোথা থেকে বন্ধ করতে হবে, প্রত্যেক এলাকায় কিছু ভলেন্টিয়ার তৈরি করতে হবে।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়—এটা নিয়েই আমরা কথা বলছি এবং এটিকে কার্যকর করার চেষ্টা করছি, যাতে দেশের মানুষ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও, প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও, ঝুঁকি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও আমরা এটা পালন করতে পারব।’আলোচনায় রাজউক চেয়ারম্যান জানান, নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিতে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলা হচ্ছে।