৪৮ ঘন্টায় ৬ নারীর লাশ উদ্ধার ঢাকায়
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৬ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগদ রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মগবাজার, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৬ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগদ রাত থেকে রোববার ১৮ জানুয়ারী সকাল পর্যন্ত মগবাজার, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।নিহতরা হলেন– বড় মগবাজার এলাকার শম্পা আক্তার, গুলশান কালাচাঁদপুর এলাকার সাদিয়া রহমান মীম, বাড্ডা থানার আফতাবনগরের সুবর্ণা আক্তার, মিরপুর ১০ নম্বরের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিম, ডেমরার পূর্ব বক্সনগরের কোহিনূর ও যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগের আশা আক্তার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার রাজধানীর হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে শম্পা আক্তার (২৬) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।শম্পা আক্তার তাঁর স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে বড় মগবাজারের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পারিবারিক কলহের জেরে নিজ রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিন গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে সাদিয়া রহমান মীম (২৭) নামের এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাদিয়া একটি বিউটি পার্লারে ও বারে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।শুক্রবার রাত থেকে মীমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না পরিবার। এরপর শনিবার রাতে তার বড় বোন কালাচাঁদপুরে বাসায় এসে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। এরপর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মীমের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান সাদিয়া। মীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
এর আগে গতকাল আফতাবনগর থেকে সুবর্ণা আক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামী আজহারুল ইসলামের সঙ্গে তিনি আফতাবনগরের বাঘাপুরে ভাড়া থাকতেন। তাদের মধ্যে নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। আজহারুল জানান, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সুবর্ণা গলায় ফাঁস নেয়। এ বিষয়ে হেফাজতে নিয়ে আজহারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিন মিরপুর ১০ নম্বর থেকে সানজিদা ইসলাম মিম নামে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ভাই জানান, পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে মিম শনিবার সকালে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানে ফাঁস নেয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনাপাড়া আদর্শবাগের বাসা থেকে আশা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে বাসায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় আশাকে পাওয়া যায়। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আশার পরিবার। এছাড়া ডেমরার পূর্ব বক্সনগর থেকে শুক্রবার রাতে কোহিনূর নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানার পুলিশ। স্বজনেরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেন কোহিনুর। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।




