• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

‘সারজিসের মন্তব্য হুমকি’ রাজনৈতিক দল যেন ফাউল করতে না পারে সে ব্যবস্থায়ই করবে ইসি


প্রকাশিত: ৬:১৯ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২৫ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৩ বার

ইসি সংবিধান ও বিবেক মতে চলে। কাউকে ফেভার নয়, নিরপেক্ষ থাকতে চায়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের উদ্দেশ্যেই কাজ করছে ইসি। রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রধান অংশীজন। তারা যেন ফাউল করতে না পারে

 

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় নাগরিক পার্টির চাওয়া শাপলা প্রতীক নিয়ে এতো আলোচনা কেন তা জানতে চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইসি সংবিধান ও বিবেক মতে চলে। কাউকে ফেভার নয়, নিরপেক্ষ থাকতে চায়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের উদ্দেশ্যেই কাজ করছে ইসি। রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রধান অংশীজন। তারা যেন ফাউল করতে না পারে সে ব্যবস্থায়ই করবে ইসি।

সিইসি বলেন, ‘শাপলা নিয়ে একাধিক দলের দাবি আছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য চেয়েছিল শাপলা। তখন গণমাধ্যমে এত আলোচনা হয়নি। এখন এনসিপি চেয়েছে বলে এত আলোচনা কেন? রাজনৈতিক দল অনেক কথাই বলে, তাদের বলার অধিকার আছে। ইসি শুনবে। তবে কাজ করবে আইন মোতাবেক। প্রতীক নিয়ে সারজিসের মন্তব্যকে হুমকি’ও মনে করে কমিশন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ১১৫টি প্রতীক চূড়ান্ত করে বুধবার রাতে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চাওয়া শাপলা প্রতীক রাখা হয়নি। পাশাপাশি স্থগিত রাখা হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পুনর্বহাল করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দলটির মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম বলেন, “আইনগত কোনো বাধা নেই। তালিকায় না থাকার কারণে কমিশন শাপলা দিচ্ছে না। আমাদের প্রতীক শাপলাই হতে হবে, অন্য কোনো বিকল্প নেই। সকল ধরনের ভণ্ডামিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। নাহলে নির্বাচন কিভাবে হয় আর কে ক্ষমতায় গিয়ে কীভাবে সুবিধা নেয় সেটা আমরাও দেখে নেব।”

নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রবাসীদের আস্থাহীনতা দূর করতে কাজ চলছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইসির উপর প্রবাসীদের আস্থা নেই। অতীতের আস্থাহীনতা কাজ করছে তাদের মধ্যে। ইসি আস্থাহীনতা দূর করতে কাজ করছে। কানাডা গিয়ে আত্মবিশ্বাস এসেছে, পশ্চিমা দেশে প্রবাসী ভোট নিয়ে সফলভাবে কাজ করা যাবে।’

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তার নিউইয়র্ক সফরে নির্বাচনের কথা বলছেন। ইসি সে মোতাবেক কাজ করছে। ইসি সংবিধান ও বিবেক মতে চলে। কাউকে ফেভার নয়, নিরপেক্ষ থাকতে চায়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের উদ্দেশ্যেই কাজ করছে ইসি। রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রধান অংশীজন। তারা যেন ফাউল করতে না পারে সে ব্যবস্থায়ই করবে ইসি। তবে রাজনীতিবিদদের উপর ইসির আস্থা আছে।’

এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে যা যা করা দরকার, আমরা জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টার কথা বাস্তবায়নে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন করতে আমরা আন্তরিক। আমরা আইনকানুন মেনে, সরল পথে চলতে চাই। কাউকে সুবিধা পাইয়ে দিতে কাজ করছি না। কোনো রাজনীতিবিদ ফাউল খেলবেন বলে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ১ লাখ আর্মি মাঠে থাকবে। যেই ভয় সবাই পাচ্ছে, সেটার কারণ নেই।’