• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনে জুলাই অভ্যুত্থানের মারণাস্ত্র মিলেছে-নারী শুটার ব্যবহার অপু বাহিনী’র


প্রকাশিত: ১১:০৬ পিএম, ৭ জানুয়ারী ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২৩ বার

 

ফেডারেশনে অস্থিরতা কেন একটি বিশেষ মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে? এর নেপথ্যে রয়েছে আমাদের সাম্প্রতিক একটি অভিয়ান এবং চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার। সম্প্রতি একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি (Inventory) পরিচালনা করি। এই অডিটে ফেডারেশনের স্টোর থেকে ‘অবৈধ অস্ত্রের মজুদখানা’ হিসেবে অবৈধ ১ এম.এম (9mm) এবং ৭.৬২ এম.এম (7.62mm) ক্যালিবারের বুলেট পেয়েছি। 

বিশেষ প্রতিনিধি : ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মারণাস্ত্র মিলেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনে (BSSF)। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য ফাঁস করে দেন ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম। তিনি বলেন, বিগত সময়ে স্বৈরাচারী সরকারের দোসর, সাবেক মহাসচিব এবং সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদের ভাই ইন্তেখারুল হামিদ অপু-গংরা এই ফেডারেশনকে ক্রীড়া চর্চার আড়ালে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছিলেন।এমনকি ফেডারেশনকে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ‘অবৈধ অস্ত্রের মজুদখানা’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল।

ফেসিস্টদের এই গভীর ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়ায় চক্রটি ফেসিস্টদের দোসরদের নিয়ে ‘বিএসএসএফ’ এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে পত্রপত্রিকা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসিস্ট অপু গংরা তাদের অপরাধ ঢাকতে নারী শ্যুটারদের ব্যবহার করে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ফেসিস্টদের এই দালিলিক সত্যের উম্মোচন করতেই সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয় বলে জানান সাধারন সম্পাদক।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেডারেশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী পর্ষদ, ক্যাম্পভুক্ত শুটারগণ (বিশেষ করে নারী শ্যুটারগণ) অত্যন্ত কুকৌশলীভাবে আমাদের সম্মানিত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বেশ কিছু ভয়ংকর, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সুচারুভাবে সাজানো আবেগনির্ভর মিথ্যাচারের মাধ্যমে ফেডারেশন ও এর কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার যে অপপ্রয়াস চলছে, তার বিপরীতে দালিলিক সত্য এবং ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করার লক্ষ্যেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

অভিযোগের প্রশাসনিক বিশ্লেষণ:
“প্রথমেই আসা যাক কথিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে। গত অক্টোবর মাস থেকে কামরুন নাহার কলি, তাসমায়াতি আলী এমা, সাবরিনা সুলতানা, মির্জা আবিদুর রহমান আহাদ এবং শারমিন আক্তার রত্নাসহ অন্যূন ৬ জন ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘মানসিক নির্যাতন’ ও ‘হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় উঠে এসেছে:

পদ্ধতিগত লঙ্ঘন (Procedural Violation): এই অভিযোগকারীদের কেউই ফেডারেশন বা তাদের নিজ নিজ ক্লাবের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ (Written Complaint) দায়ের করেননি। এমনকি এমন কোনো অভিযোগপত্র ফেডারেশনের দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ফোরামে অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের না করে, সরাসরি গণমাধ্যমে গিয়ে বিচার চাওয়া প্রমাণ করে যে তাদের উদ্দেশ্য প্রতিকার নয়, বরং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং ফেডারেশনের সম্মানহানি করা।

চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ ও প্রশাসনিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন (Gross Misconduct & Breach of Protocol):

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ব্যক্তিরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (NSC) দাপ্তরিক নথিপত্র এবং শ্যুটিং ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এবং বিনা অনুমতিতে উপস্থাপন করেছেন। একটি সরকারি বা দাপ্তরিক নির্দেশনাকে এভাবে জনসম্মুখে অবজ্ঞা করা এবং তা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা ‘খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিধি’ বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ (Code of Conduct)-এর সরাসরি লঙ্ঘন চরম ধৃষ্টতার শামিল।যিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ভঙ্গ করেন, তার মুখে ‘ন্যায়বিচার’-এর দাবি কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেই বিচার আমরা আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে সেই ডরমিটরি সংস্কার করে তাকে আধুনিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানে রূপান্তর করেছে।

মেধা শূন্য পাইপলাইন:
গত ১০-১৫ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে অলিম্পিক বা কমনওয়েলথ গেমসে আমাদের কোনো স্বর্ণপদক নেই। এমনকি ২০১২-২০১৫ সময়কালে সাফ গেমসে মাত্র একটি স্বর্ণপদক অর্জিত হয়েছে। বিগত কমিটির স্বৈরাচারী কার্যক্রম এবং দুর্নীতির কারণে শুটিং -এর মতো গৌরবোজ্জ্বল ক্রীড়াজন আজ সম্মান থেকে বঞ্চিত। তারা পাইপলাইন সম্পূর্ণ শূন্য করে দিয়ে গেছে। আজ যে মেডেল খরা চলছে, তা তাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনারই ফসল।”

চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ষড়যন্ত্রের মূল কারণ:

আপনারা হয়তো ভাবছেন, সংস্কার কাজ চলাকালীন হঠাৎ কেন এই অস্থিরতা? কেন একটি বিশেষ মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে? এর নেপথ্যে রয়েছে আমাদের সাম্প্রতিক একটি অভিয়ান এবং চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার। ফেডারেশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে আমরা সম্প্রতি একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি (Inventory) পরিচালনা করি। এই অডিটে ফেডারেশনের স্টোর থেকে এমন কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে যা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অশনিসংকেত। আমরা সেখানে অবৈধ ১ এম.এম (9mm) এবং ৭.৬২ এম.এম (7.62mm) ক্যালিবারের বুলেট পেয়েছি।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, স্পোর্টস শুটিংয়ে এই ধরণের মারণাস্ত্রের গুলির কোনো ব্যবহার নেই। এগুলো সাধারণত সামরিক বা পুলিশি অপারেশনে ব্যবহৃত হয়। এর থেকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিগত কমিটি যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বৈরাচারী সরকারের দোসর, সাবেক মহাসচিব এবং সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদের ভাই ইন্তেখারুল হামিদ অপু-তারা এই ফেডারেশনকে ক্রীড়া চর্চার আড়ালে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছিলেন। ফেডারেশনকে কি তবে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ‘অবৈধ অস্ত্রের মজুদখানা’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল?

এমনকি আমাদের অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, প্রাক্তন ও বর্তমান কিছু শ্যুটার পূর্বের স্বৈরাচারী আমলে নিয়মবহির্ভূত অসামাজিক এবং উচ্ছ্বম্মল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। যার মধ্যে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও কতিপয় কর্মকর্তার সাথে ফেডারেশন প্রাঙ্গণের বাইরে অবস্থান করা এবং মাদক সেবনের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, বর্তমানে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারীদের মধ্যে মিস শারমিন আক্তার রত্না অতি সরব ভূমিকা পালন করছেন। মিস রত্না পূর্বে পুরো স্বৈরাচারী আমলে জনাব ইন্তেখাবুল হামিদের পৃষ্ঠপোষকতায় নানাবিধ অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বর্তমানে তাদের এই লাগামহীন মিথ্যাচার, আইনি অপতৎপরতা (Legal Maneuver) এবং মানহানিকর পদক্ষেপগুলো আমাদের সেই সন্দেহকেই ধ্রুব সত্যে পরিণত করেছে যে ফ্যাসিস্টের দোসররা এখন তাদের হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে শেষ ‘মরণকামড়’ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা যখনই এই অনিয়ম এবং অবৈধ কার্যক্রম উদঘাটন শুরু করেছি, ঠিক তখনই সেই ক্ষমতাচ্যুত সিন্ডিকেট তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিরীহ শুাটারদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা শুরু করেছে।”

 তথাকথিত ‘মানসিক নির্যাতন’ বনাম পেশাদারী শৃঙ্খলা-

“অভিযোগ করা হয়েছে যে, শ্যুটারদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে ‘মানসিক নির্যাতন’ করা হয়। শুটিং একটি অত্যন্ত উচ্চমানের মানসিক ক্রীড়া (Mental Sport)) আন্তর্জাতিক মানের পারফরম্যান্স নিশ্চিত। করতে একজন কোচের টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ এবং ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলিং’ অপরিহার্য।

আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যখনই ফেডারেশন মেধার ভিত্তিতে দল গঠন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই এই পেশাদারী প্রক্রিয়াকে ‘নির্যাতন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা কমিটি মনে করে, এই শ্যুটারদের সাম্প্রতিক আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অসংলগ্ন বক্তব্য প্রমাণ করে যে তারা বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে খেলার মতো মানসিক স্থিতিশীলতায় নেই।

পাশাপাশি, শুটার কলি যে দিনটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেদিন মূলত শুটারদের পারস্পরিক অভিযোগের ভিত্তিতে সবাইকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে আলোচনা করা হয়েছিল এবং শ্যুটারদের শক্তভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কেউ যেন এমন কোনো অযাচিত আচরণ বা গুজব না ছড়ান, যা দলের পারফরম্যান্স নষ্ট করে। একে নির্যাতন বলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

ইসি সদস্যদের বিরুদ্ধে তাসমায়াতি এমার আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গ-

“আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে একজন শুটার, তাসমায়াতি এমা বারংবার বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে এবং মিডিয়ার কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, মিস এমা যেদিন ফেডারেশনে এসেছিলেন, সেদিন তিনি এবং তার মায়ের সাথে আরো তিনজন সম্মানিত ইসি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই নিশ্চিত করেছেন যে, যেসব হীন অভিযোগ আনা হচ্ছে তার কোনোটিই সত্য নয়। বরং উক্ত দিন ইসি সদস্যরা মিস এমাকে শু্টিং-এ ফিরে আসার ব্যাপারে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজধানী শ্যুটিং ক্লাবের গোলাবারুদ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব না পাওয়ায় এবং উক্ত ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে আলোচনার প্রেক্ষিতে মিস এমাকে জানানো হয় যে-রাজধানী ক্লাবকে শক্ত জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতে পারে (অর্থাৎ, ‘রাজধানী ক্লাব বিপদে পড়তে পারে’)। অথচ এই দাপ্তরিক সতর্কবার্তাকে যেভাবে বিকৃত করে ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা ন্যাক্কারজনক এবং গোলাবারুদের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার অন্তরায়।”

ইসি সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রসঙ্গ-

“ফেডারেশন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, পতিত সরকারের দোসররা ফেডারেশনের ইসি সদস্যদের লক্ষ্য করে মিথ্যা মামলা এবং জিডি দায়ের করছে। মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা যাচাই করে দেখেছি যার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে, উক্ত দিনে, উক্ত সময়ে এবং উক্ত স্থানে তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। এতে আমাদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে যে, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে পতিত সরকারের দোসররা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে, যেন ফেডারেশন সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে না পারে।”

বিগত কমিটির রেখে যাওয়া ধবংসস্তূপ ও বর্তমানের সংস্কার-

“আমাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের মূল কারণ বুঝতে হলে আপনাদের ফেডারেশনের অতীত অবস্থার দিকে তাকাতে হবে।আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় শুটারদের ডরমিটরির যে অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি, তা ছিল শোচনীয়। নোংরা পরিবেশ এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব এটাই ছিল বিগত কমিটির ‘খেলোয়াড় বান্ধব’ চেহারার নমুনা।

 একটি গভীর শঙ্কার কথা না বললেই নয়-

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন নারী অ্যাথলেট তৈরি করা এমনিতেই একটি কঠিন সংগ্রাম। সেখানে এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও ‘নিরাপত্তাহীনতা’র গুজব আমাদের রক্ষণশীল পরিবারগুলোর মনে যে ভীতি সঞ্চার করছে, তার ক্ষতি অপূরণীয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শুটিং অঙ্গনের সাথে জড়িত সবার মনেই এই মিথ্যা অভিযোগগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং আমাদের স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আজ যারা হীন ব্যক্তিস্বার্থে একটি পবিত্র ক্রীডাঙ্গনকে কলঙ্কিত করছেন, তারা শুধু ফেডারেশনের ক্ষতি করছেন না তারা হত্যা করছেন আগামী দিনের হাজারো সম্ভাবনাময়ী শুটারের স্বপ্নকে। যারা দেশের সম্মানকে জিম্মি করে নিজেদের ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়, তারা কেবল ক্রীড়াঙ্গনের শত্রু নয়, তারা দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রার শত্রু।

আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করতে চাই-বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন কোনো সিন্ডিকেট বা অপশক্তির রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নত করবে না। আমরা যেকোনো স্বচ্ছ তদন্তকে স্বাগত জানাই, কিন্তু অপরাধ ও দুর্নীতির সাথে কোনো আপোষ করব না। সত্যের মশাল হাতে আমরা এই অন্ধকার দূর করবই, ইনশাআল্লাহ।