• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

শটগান চায়না রাইফেলেও না এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে পুলিশ :সিএমপি কমিশনার


প্রকাশিত: ৩:৪২ এএম, ১২ নভেম্বর ২৫ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৬৫ বার

 

শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।

নাশকতা এড়াতে এসএমজি ছাড়াও শটগান, দুটি গ্যাসগান এবং টিম ইনচার্জকে নাইন এমএম পিস্তল বহন করতে বলা হয়েছে-বেতার বার্তায় পুলিশ কমিশনার

 

 

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : এ যেন যে লাউ সেই কদু-প্রবাদের মতো অবস্থা। আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের মধ্যে তফাৎ হওয়ার কথা ছিল তা যেন সুদূর পরাহত! যে কারণে সিএমপি কমিশনার নির্দেশ দিলেন, সন্ত্রাসীদের দেখা মাত্র-শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে সব পুলিশ সদস্য।

সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ব্রাশফায়ার করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। এ নিয়ে ফের আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন অরাজকতা করতে রাস্তায় নামলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। গুলি চালানো হবে না। গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হবে। পাঠানো হবে আদালতে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে মৌখিকভাবে নিজস্ব বেতার বার্তায় থানা ও টহল পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার।

বেতার বার্তায় পুলিশ কমিশনার বলেন, শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে। বেতার বার্তায় যে কোনো পরিস্থিতি এবং নাশকতা এড়াতে টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও শটগান, দুটি গ্যাসগান এবং টিম ইনচার্জকে নাইন এমএম পিস্তল বহন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী চেকপোস্ট ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করতে নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার। সব দায় কমিশনার বহন করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ গণমাধ্যমে বলেন, বাইরে থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এসে নগরবাসীকে গুলি করে চলে যাবে, তা হতে পারে না। এ জন্য সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ার করার নির্দেশ দিয়েছি। দেখামাত্র ব্রাশফায়ার নিরস্ত্র জনসাধারণের জন্য নয়। যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর তো আর এসএমজি ইউজ করব না।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা হত্যায় জড়িত কয়েকজন আসামিকে এর আগে আমরা ধরে দিয়েছিলাম। কিন্তু বেশি দিন তারা কারাগারে থাকেননি। কয়েক সপ্তাহ পর জামিনে বেরিয়ে আসেন।ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন দাবি করে হাসিব আজিজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তারা তাদের কার্যক্রম চালালে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাদের গুলি করা হবে না।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগের বহরে গুলিতে তিনিসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে মারা যান জনসংযোগের বহরে থাকা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।

ওই ঘটনা নিয়ে যখন নগরজুড়ে মাতামাতি, তখন শুক্রবার নগরের হালিশহর মাইজপাড়া এলাকায় মো. আকবর নামের এক ব্যক্তিকে রাস্তায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা রয়েছে।এর আগে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে গত ২৭ অক্টোবর নগরের বাকলিয়া বগার বিলের মুখ এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী মো. সাজ্জাদকে (২২) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ১০ জন।