লাভ-ক্ষতি দেখে সংস্কার চায় বিএনপি: জামায়াত
বিএনপিকে সহযোগিতা করতে বেশ কিছু জায়গায় ছাড় দিয়েছে জামায়াত। দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিষয়ে একমত হয়েও নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনে করে তারা ১০০ বছর ক্ষমতায় থেকে যাবে।
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন,বিএনপি তাদের লাভ-ক্ষতির হিসেব করে সংস্কার চায়, তবে এতে দেশ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপিকে সহযোগিতা করতে বেশ কিছু জায়গায় ছাড় দিয়েছে জামায়াত। দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিষয়ে একমত হয়েও নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনে করে তারা ১০০ বছর ক্ষমতায় থেকে যাবে। রাজধানীর মগবাজারে আজ বৃহস্পতিবার ৩০ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। এ সময় তাহের আরও বলেন, বিএনপি তাদের লাভ-ক্ষতির হিসেব করে সংস্কার চায়, তবে এতে দেশ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনোভাবে মানবো না বিএনপির এই মানসিকতা।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন চাই, সংস্কার প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। নির্বাচনের আগে গনভোট চায় জামায়াত, নিশ্চয়তা চায়। নির্বাচনের প্রস্তুতির আগে অনেকগুলো ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন দল বিভ্রান্তি ও ভিন্ন কথা বলে। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই নির্বাচন চায় জামায়াত। জাতীয় পর্যায়ের সংস্কার হতে পারতো একমাত্র উপায়, এটি জাতি চায়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক–প্রশাসনিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। ফেসবুকে আংশিক বক্তব্য তুলে জামায়াত ইসলামীকে বিতর্কিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ঐকমত্যে কমিশনের প্রস্তাবনার বাইরে কোনো মনগড়া কাজ করেনি সরকার। কোনো দলের পক্ষে এর বাইরে এজেন্ডা তৈরির সুযোগ ছিল না। যারা বিরোধিতা করছে তাদের দলীয় প্রক্রিয়াও এমনই। ৯০ শতাংশ একমত হওয়ার ফলেই নোট অব ডিসেন্ট যুক্ত করা হয়। একটি দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট গণভোটে পাঠাতে চায়, নির্বাচনের সময় কম থাকায় যা অসম্ভব। ধোঁয়াশা তৈরি করতে এমনটি বলছে তারা। এমনটি করা হলে অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে সেটি নষ্ট হবে। রাজনীতিতে সংশয়, আস্থাহীনতা তৈরি হবে।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করলে প্রতারণা করা হবে। আস্থা হারালে দুটি নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না। মো. তাহের বলেন, প্রতীক বিকিয়ে দিয়ে অন্য দলের নির্বাচন করলে নিজের নির্বাচন হয় না, এতে তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। তাই যার যার প্রতীকে নির্বাচন জরুরি। প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা যাবে না, তাহলে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠবে।




