ভোট নিয়ে নানা বাগড়া- কি হয় কি হয় অবস্থা!!
ভোট বানচালের নানা চেষ্টা তদবির শুরু করেছে বিভিন্ন মহল। ইতিমধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পর তফসিল ঘোষণা চায় এনসিপি; অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হয়েছে; নানা বাগড়ার ইঙ্গিত প্রকাশ্য
শফিক রহমান : ভোট নিয়ে ‘নানা বাগড়া’ শুরু হয়েছে। সরকারের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি বানচালের নানা চেষ্টা তদবির শুরু করেছে বিভিন্ন মহল। ইতিমধ্যে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ওদিকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রায় দেবেন আপিল বিভাগ। সব মিলিয়ে ভোট নিয়ে নানা বাগড়ার ইঙ্গিত প্রকাশ্য রুপ নিচ্ছে। কি হয় কি হয় অবস্থা চলছে! এনিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা শংকা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার নির্বাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা এবং ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রিটে এ বিষয়ে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট-
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম এই রিট দায়ের করেন। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, নির্বাহী বিভাগের লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগের ন্যায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে। রিটে এর জন্য ‘ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেয়া হয়। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের চাহিদা মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা করে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হয়।
নির্বাহী বিভাগ আস্থা হারিয়েছে-
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে নির্বাহী বিভাগ তাদের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দ্বারা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, এটা কেউ বিশ্বাস করে না। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল থেকে সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ডিসিদের সঙ্গে নির্বাচনের ব্যাপারে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তাদের আবারও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আরেকটি প্রভাবিত নির্বাচন হবে, সেটা নিশ্চিত।
তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায়, নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পর তফসিল চায় এনসিপি-
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানায়। এ সময় নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন সনদ নিয়েছে শাপলা কলি প্রতীকের দল এনসিপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ-
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রায় দেবেন আপিল বিভাগ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত ৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।মামলার শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠন হওয়া সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। যে সরকার শপথ নেয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট পুনর্গঠন করেছে, সেই আদালতে গিয়েই সেই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্ব-বিরোধী।
যদিও রিটকারী আইনজীবীর মূল যুক্তি হচ্ছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে তাদের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের মতামত দেয়ার সুযোগ নেই। এতে বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া অবৈধ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে রিটটি দায়ের করেন সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ।




