বসুন্ধধরায় আর্ট উৎসব-সুযোগ পেলে শিশুরা নিজেকে প্রকাশ করতে পারে : ইয়াশা সোবহান
ইয়াশা সোবহান বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান শুধু একটা পুরস্কার দেওয়ার অনুষ্ঠান না। আজ আমরা উদযাপন করছি শিশুদের মন, তাদের কল্পনা, স্বপ্ন ও ক্রিয়েটিভিটিকে। চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন ‘এত বড় শিশুদের আর্ট আয়োজন ইউরোপেও দেখিনি’। শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে এমন উদ্যোগ ঐতিহাসিক আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
বিশেষ প্রতিনিধি : শিশুদের যদি সুযোগ দেওয়া যায় তাহলে তারা সুন্দরভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।‘বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান শুধু একটা পুরস্কার দেওয়ার অনুষ্ঠান না। আজ আমরা উদযাপন করছি শিশুদের মন, তাদের কল্পনা, স্বপ্ন ও ক্রিয়েটিভিটিকে।
শিক্ষার্থীরা তাদের আর্ট ওয়ার্কের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের ইতিহাস। এই প্রতিযোগিতা আমাদের বুঝিয়েছে শিশুদের যদি সুযোগ দেওয়া যায় তাহলে তারা সুন্দরভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।এ সময় তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তিনি সব সময় শিক্ষা, শিশু ও সমাজের ভালো কাজের পাশে থাকেন। তার জন্যই আজ দেশে এত বড় একটি আর্ট কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইয়াশা সোবহান বলেন, ‘বসুন্ধরা চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য চিন্তা করেন। বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ সেই চিন্তারই একটি ফল। যেখানে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে পড়ালেখা করতে পারছে এবং নিজেদের মতো করে বড় হতে পারছে। বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও চেষ্টাই একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেক ইমোশনাল। কারণ এই প্রতিযোগিতায় আমার বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেছে। আমি তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমাদের দেখিয়েছে, প্রতিভার কোনো সীমা নেই। তাদের সাহস ও চেষ্টা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পগুরু মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী আবদুস শাকুর শাহ, ফরিদা জামান, আফজাল হোসেন ও ধ্রুব এষ উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপেও এতবড় আর্ট উৎসব দেখিনি
:বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিশাল আর্ট কর্মশালাকে ‘মেগা উৎসব’ আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এত বড় শিশুদের আর্ট আয়োজন ইউরোপেও দেখিনি’। শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে এমন উদ্যোগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য একটি বিরাট দিন।
এটা একটা মেগা উৎসব। এত বাচ্চা একসঙ্গে ছবি এঁকেছে—এমন আয়োজন আমি ইউরোপেও দেখিনি।তিনি বলেন, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছেন।বাচ্চাদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও এসেছেন—এটা একটা ইতিহাস।তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বাচ্চাদের ১০ বছর পরও এই দিনটি একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে। এটা একটা মেগা ওয়ার্কশপ। এত বড় আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের ছবি আঁকায় উৎসাহিত করতে হবে। অভিভাবকদের আমি বলব, বাচ্চাদের ছবি আঁকা দরকার। তারাই হচ্ছে রিয়েল আর্টিস্ট। বাচ্চারা ফ্রিডমভাবে ছবি আঁকে। তারা কিন্তু ছবি আঁকে নিজের অজান্তেই।তাদের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। তাই তাদের নিরুৎসাহিত করা যাবে না। ‘ছবি এঁকে কী হবে’ এ ধরনের কথা বলা যাবে না।শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগের দিক তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কতগুলো বাচ্চা একত্রিত হয়েছে, ছবি এঁকেছে। এতে তাদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে এবং যোগাযোগও বেড়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এঁকে বিজয়ী যারা-
‘বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ১৪৩ শিক্ষার্থীকে। দুই ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী এসব শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে (হল নম্বর-৪) এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।ক্যাটাগরি-১ এ (তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি) প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আরাত্রিকা বড়াল, দ্বিতীয় হয়েছে রাইছা ইসলাম জেছি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে সৌভিক সাহা।
তাদের ক্রমান্বয়ে তিন লাখ, দুই লাখ এবং এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।ক্যাটাগরি-২ (সপ্তম থেকে দশম) থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সুপ্রভা সাহা। সে তিন লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্থান ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে যথাক্রমে মো. ইমরুল কায়েস রাফসান ও নাদিদ।তারা যথাক্রমে দুই লাখ ও এক লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে।বিশেষ ক্যাটাগরিতে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু) পুরস্কার পেয়েছে মায়াস রাসদান এজাজ। তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।বিজয়ী শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে গভীর অনুভূতি ও পরিণত ভাবনায় ছবিতে তুলে ধরে দর্শক ও বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়।
৩ ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ টাকার ১৪৩টি পুরস্কার-
তিনটি ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ টাকার মোট ১৪৩টি পুরস্কার ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
ক্যাটাগরি ১- (তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ) প্রথম হয়েছেন আরাত্রিকা বড়াল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ তৃতীয় শ্রেণি।
দ্বিতীয় হয়ছেন রাইছা ইসলাম জেছি উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজ ষষ্ঠ শ্রেণি।
তৃতীয়ছেন সৌভিক সাহা নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল ষষ্ঠ শ্রেণি।
চতুর্থ হয়েছেন মাহরিন ইসলাম ওয়াইডাব্লিউসিএ গার্লস স্কুল চতুর্থ শ্রেণি।
পঞ্চম সাবা ইসলাম বর্ণ এপিবিএন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণি।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে (সপ্তম থেকে দশম)
প্রথম হয়েছেন সুপ্রভা সাহা নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ দশম শ্রেণি।
দ্বিতীয় হয়েছেন মো. ইমরুল কায়েস রাফসান এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ, ঢাকা নবম শ্রেণি।
তৃতীয় হয়েছেন নাদিদ বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি।
চতুর্থ হয়েছেন মাহিরুল বিনতে হক মিহিকা
সাম্পান শিশু ও কিশোর সংগঠন অষ্টম শ্রেণি।
পঞ্চম হয়েছেন জয়িতা দে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি।
বিশেষ ক্যাটাগরি- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন
বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন মায়াস রাসদান এজাজ ভিশন গ্লোবাল স্কুল চতুর্থ শ্রেণি।
সকল ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার ১ম পুরষ্কার ছিল ৩ লাখ, ২য় ২ লাখ, ৩ য় ১ লাখ, ৪ র্থ ৭০ হাজার, ৫ ম ৫০ হাজার টাকা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পগুরু মনিরুল ইসলাম। এ আয়োজনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান। এ ছাড়া সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী আবদুস শাকুর শাহ, ফরিদা জামান, আফজাল হোসেন ও ধ্রুব এষ উপস্থিত ছিলেন।বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বমোট ৫৮৭১ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। এই আয়োজনের মূল থিম ছিল—‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’।




