ফেনীতে বিএনপি-ছাত্রদল ঈশ্বরদীতে জামায়াত বিএনপি তুমুল সংঘর্ষ
আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেছেন, জেলা বিএনপির নেতাদের মদদে বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের লোকজন এ হামলা করেছে।
ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীতে ছাত্রদল বিএনপি- ঈশ্বরদীতে জামায়াত বিএনপির নির্বাচনী সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে বহু সংখ্যক নেতা কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানান, ফেনীর দাগনভূঁইয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সিলোনিয়া ও বেকেরবাজার গণসংযোগ করে তুলাতুলি বাজারে গণসংযোগ করতে যাওয়ার সময় পৌরসভার জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেছেন, জেলা বিএনপির নেতাদের মদদে বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের লোকজন এ হামলা করেছে। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাজী জামসেদুর রহমান ফটিক সদ্য কারামুক্ত হওয়ায় তার গ্রুপের নেতাকর্মীরা ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে বালুর ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেন। এ সময় আবদুল আউয়াল মিন্টুর হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে গাড়ি বহর আটকা পড়েন। পরে পুলিশ এসে বালুর ট্রাক সরিয়ে দিলে তিনি পরবর্তী সভার উদ্দেশ্যে যান। এ সময় বহরে থাকা নেতা কর্মীদের সাথে সংঘর্ষের আহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, অভিযুক্ত কাজী জামসেদুর রহমান ফটিক হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আকবর হোসেনের লোকজনের হামলায় আমাদের ৮ জন আহত হয়েছে।এ ব্যাপারে দাগনভূঁইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ঘটনা শুনেছি। তবে এ পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
পাবনা ঈশ্বরদীতে বিএনপি জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ
আমাদের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানান, পাবনার ঈশ্বরদীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের প্রচারণায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তালেব মন্ডলের গাড়িসহ শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর চড় গড়গড়ি এলাকায় দুইদিন আগে স্থানীয় জামায়াতের কর্মীদের মারধর করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মক্কেল মৃধা ও লোকজন। সেই ঘটনার পর আজ ওই এলাকায় প্রচারণা চালাতে যান পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও তার সমর্থকরা। তারা চর গড়গড়ি আলহাজ্ব মোড়ে পৌঁছালে মক্কেল মৃধার ছেলের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করে।
পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ফেরর পথে মৃধাপাড়ায় আবারও হামলা চালায় মক্কেল মৃধার লোকজন। এতে আবু তালেব মন্ডলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাকে দ্রুত নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেয়া হয় তবে তিনি সামান্য আহত হন। এছাড়া জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এবিষয়ে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করে জানান, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় আজকে সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমার গাড়িসহ আমাদের শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। অন্তত ৬০-৭০ জন আহত হয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসম আব্দুন নুর দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানান, আপনারা (সাংবাদিক) স্পটে আসেন, আমরা স্পটেই আছি। স্পটে ছাড়া কিছুই বলা যাবে না। বক্তব্য নিতে হলে আরও দুই ঘণ্টা পর নিতে হবে।এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




